
নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিতে দীর্ঘ রাজনৈতিক দাবি ও জনআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশে গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই গঠিত এই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু করে।
১৫ বছর পর নিজের প্রতিষ্ঠিত সেই ট্রাইব্যুনালের রায়ের মুখোমুখি হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পেয়েছেন। এ রায়কে ঘিরে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আইসিটি–১ ও আইসিটি–২—দুটি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫৫টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল–১ থেকে ৪৪টি এবং ট্রাইব্যুনাল–২ থেকে ১১টি মামলার রায় এসেছে। বহু বছর ধরে চলা এসব মামলার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত নৃশংসতার বিচারিক সত্য ও দায় নির্ধারণের চেষ্টা হয়েছে।
সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এ পর্যন্ত ছয়জন শীর্ষ পর্যায়ের আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনই জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন—
-
মতিউর রহমান নিজামী, তৎকালীন আমির
-
আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, সেক্রেটারি জেনারেল
-
আবদুল কাদের মোল্লা, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল
-
মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল
-
মীর কাসেম আলী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য
এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৎকালীন সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত এসব মামলার রায়কে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়। সাম্প্রতিক রায়ে শেখ হাসিনার দণ্ডাদেশ ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই বিচার প্রক্রিয়া নতুন রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


