অনলাইন ডেস্ক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির নেতা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিয়ে গভীর আক্ষেপ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। তিনি দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (—) বেলা সোয়া ২টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “দিবালোকে, রাজধানী ঢাকায় জুমার নামাজের পর প্রকাশ্যে গুলি করে একজন মানুষকে হত্যা করা হলো। অথচ সাত-আট দিন পেরিয়ে গেলেও খুনিরা ধরা পড়েনি। যদি এই সময়ের মধ্যে তারা সীমান্ত পার হয়ে যেতে পারে, তবে তা জাতির জন্য চরম লজ্জার বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টার মধ্যে তারা কীভাবে দেশ ছাড়ল—এই প্রশ্ন আমি জাতির কাছে রেখে গেলাম। আমার কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই। আমার ভাই ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে। শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা তার নিজের মধ্যেই ছিল। আপনারা তার বক্তব্য শুনেছেন।” এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শনিবার দুপুর আড়াইটায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
এর আগে, সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তার মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। এ সময় পরিবারের সদস্য, সহযোদ্ধা ও সহকর্মীরা সঙ্গে ছিলেন। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পুনরায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে শেষ গোসল সম্পন্ন করার পর জানাজার জন্য মরদেহ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আনা হয়।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে সরকার আজ একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে। এ উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি ভবনে এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের একজন সম্মুখ সারির নেতা ছিলেন। তিনি ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠনের মুখপাত্র ছিলেন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণাকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরিবারের সিদ্ধান্তে পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শুক্রবার তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। জানাজা শেষে তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করা হবে।


