বাসস

রাজধানীর সাত কলেজ নিয়ে গঠিত সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রফিকুল আবরার। তিনি জানান, অধ্যাদেশটির পরিমার্জিত খসড়া ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক অনুমোদন পেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফেরত এসেছে এবং খুব সম্ভবত আগামী রবিবার এটি ক্যাবিনেট বৈঠকে পাঠানো হবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন শিক্ষা উপদেষ্টা।
ড. সি আর আবরার বলেন, “সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে ইতোমধ্যে যারা ভর্তি হয়েছেন, তাদের ক্লাস শুরু করে দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে।” তিনি জানান, ক্যাবিনেটের অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর অধ্যাদেশটি চূড়ান্তভাবে জারি করা হবে।
তিনি আরও জানান, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়াটি মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক অনুমোদন নিয়ে বৃহস্পতিবার সেটি পুনরায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফেরত আনা হয়েছে।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, একটি অধ্যাদেশ জারি করতে হলে ক্যাবিনেটের অনুমোদনের পাশাপাশি আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের একাধিক ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়। সাধারণত এই প্রক্রিয়ায় তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেড় মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করেছে।
তিনি বলেন, “প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রণীত এই অধ্যাদেশটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি ও লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং শেষে উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।”
ড. সি আর আবরার আরও বলেন, ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করানো হয়েছে, যা উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নতুন এই উচ্চশিক্ষা কাঠামো সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য পেশাদারিত্ব ও ধৈর্যশীল সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। অসম্পূর্ণ তথ্য বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অধ্যাদেশের মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এতে দুটি টেকনিক্যাল ইস্যু বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। একটি হলো শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, আর অন্যটি হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের শিক্ষাকাল সম্পন্ন করার সুযোগ সৃষ্টি করা। এই দুটি বিষয়কে সমন্বয় করেই সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


