ইসতিয়াক মাহমুদ মানিক

রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আঁতুড়ঘর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর এই কার্যালয় থেকেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গতকাল কার্যালয়টি তার চিরচেনা রূপে ছিল না; শোনার ছিল না রাজনৈতিক আড্ডা বা উন্মাদনার রাজকথা।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাকরাইল মোড়, ফকিরাপুল ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কার্যালয়ে খোলা শোকবইতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। শোকবইতে লেখা প্রতিটি বার্তাই একাকারভাবে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীকে হারানোর ব্যথা প্রকাশ করছে।
পতেঙ্গা থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম রানা লিখেছেন, “আমি শোকাহত, মর্মাহত।” এম হাবিবুর রহমান মিন্টু লেখেন, “আমরা আমাদের অভিভাবকশূন্য হয়ে গেলাম। মহান আল্লাহ আপনার রূহকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন।” চট্টগ্রাম মহানগর তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাবুদ্দিন সিকদার বলেন, “শোকাহত, মর্মাহত, অপূরণীয় ক্ষতি।”
আন্তর্জাতিক কাবাডি রেফারি এস নয়ন আতিকও শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, “বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক অবদান রেখে গেছেন। আপনার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।” সাভার থেকে আসা হাবিব নামের একজন লিখেছেন, “স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া। আপনার প্রয়াণ আমাদের জন্য অপূরণীয়।”
মঙ্গলবার বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। রাষ্ট্রীয় শোক পালন ও শোকাবহ পরিবেশের কারণে গতকাল রাজধানীর দোকানপাটও বন্ধ ছিল।


