ইসতিয়াক মাহমুদ মানিক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের বিদ্রোহ। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শতাধিক আসনে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে তৃণমূলে ক্ষোভ, বিভক্তি ও সংঘাত বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, এবার বিএনপি একাধিক প্রার্থী মনোনয়নের পথ না ধরে একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে মনোনয়ন না পাওয়া অনেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন। যদিও বিএনপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহ ঠেকাতে বিএনপি প্রতি আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু এবার সেই কৌশল অনুসরণ না করায় দলটির ভেতরে অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জানিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল চাইলে একটি আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে এবং ২০ জানুয়ারি বিকাল ৫টার মধ্যে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে হবে। তবে বিএনপি এখনো সে সুযোগ গ্রহণ করেনি।
প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর বিভিন্ন জেলায় মনোনয়নবঞ্চিত নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এমনকি হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। অনেক নেতা প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন—দলীয় মনোনয়ন না পেলে তারা স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচনে যাবেন।
পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন দলীয় ও স্বতন্ত্র—দুইভাবেই মনোনয়ন সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছেন। সাতক্ষীরা-৩ আসনে ডা. শহিদুল আলম, নোয়াখালী-২ আসনে কাজী মফিজুর রহমান, নোয়াখালী-৫ আসনে হাসনা জসীমউদদীন মওদুদ, মাগুরা-২ আসনে সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামালসহ বহু নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এছাড়া কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, ঠাকুরগাঁও, হবিগঞ্জ, সিলেট ও গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামছেন দলটির প্রভাবশালী নেতারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিদ্রোহ দ্রুত সামাল দিতে না পারলে বিএনপির নির্বাচনি ফলাফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এককভাবে সরকার গঠন করতে চাইলে দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং তৃণমূলের কোন্দল নিরসন এখন বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


