শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে হবে? সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও সম্ভাবনা

পাঠক প্রিয়

জামায়াতে ইসলামীকে অবলম্বন করতে হবে মহানবীর সংবিধান ‘মদিনা সনদ’ : ড. সুফি সাগর সামস্

সার্বজনীন স্থায়ী শান্তি, ভ্রাতৃত্ব, নিরাপত্তা, মানবাধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় মদিনা সনদ এর বিকল্প নেই। মদিনা সনদ পৃথিবীর...

রাজধানীতে পাঁচ বছরে ৩ লাখ বৃক্ষরোপণ করবে ডিএসসিসি: আব্দুস সালাম

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা: রাজধানীকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করে তুলতে আগামী পাঁচ বছরে তিন লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ...

হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১৬৯

অনলাইন ডেস্ক দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর...

সংকট আতঙ্কে জ্বালানি মজুত: বাসা হয়ে উঠছে ‘ঝুঁকির পেট্রোলপাম্প’

বিশেষ প্রতিবেদন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। তবে বাস্তবে জ্বালানি সরবরাহে...

কাতারে ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে খবর...

অনলাইন ডেস্ক

নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর পথে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও শপথ নিয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের প্রশ্ন—পরিবর্তন হলে কবে এবং কীভাবে হতে পারে।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা সরকারের সময়। পরবর্তীতে গণআন্দোলনের মুখে সেই সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি উঠলেও শুরু থেকেই তাকে অপসারণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল বিএনপি। শেষ পর্যন্ত তার কাছেই নতুন সরকার শপথ নেয়, যার নেতৃত্বে আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাষ্ট্রপতির বর্তমান মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। সংবিধান অনুযায়ী, তিনি দায়িত্বে থাকলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই—যদি না তিনি পদত্যাগ করেন অথবা অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারিত হন। এ বিষয়ে বিবিসি বাংলা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংবিধান বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলেই কেবল নতুন নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও সম্ভাব্য সংস্কার

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে “আলংকারিক” পদ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। তবে রাজনৈতিক সংকট বা নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির গুরুত্ব বেড়ে যায়।

সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন। যদিও বাস্তবে এসব ক্ষমতা খুব সীমিত পরিসরে ব্যবহৃত হয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আলোচিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতির কিছু ক্ষমতা বাড়তে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ভবিষ্যতে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে সরাসরি নিয়োগ দিতে পারবেন। তবে এসব বাস্তবায়নের আগে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, যা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সাংবিধানিক উপায়

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ তিনভাবে শূন্য হতে পারে—

  • মেয়াদ শেষ হলে

  • পদত্যাগ করলে

  • অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারিত হলে

শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা কিংবা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগেও অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

এর আগে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর সরে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়। তবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে তিনি পদে বহাল থাকেন।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া

সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। প্রার্থী হতে হলে—

  • বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে

  • সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করে। সাধারণত স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

মেয়াদ শেষজনিত কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। একজন প্রার্থী মনোনয়নের জন্য অন্তত দুইজন সংসদ সদস্য প্রয়োজন—একজন প্রস্তাবক, অন্যজন সমর্থক।

সামনে কী হতে পারে?

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের প্রশ্ন সামনে আসতেই পারে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে বর্তমান রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের ওপর।

যদি রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, তাহলে অভিশংসনের মতো জটিল প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন হবে কি না—তা নির্ভর করছে বর্তমান রাষ্ট্রপতির অবস্থান, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ার ওপর।

সর্বশেষ সংবাদ

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা দিচ্ছে চীন—মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

অনলাইন ডেস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তেহরানকে নতুন করে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—এমন তথ্য...

হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১৬৯

অনলাইন ডেস্ক দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫...

কাতারে ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যদিও...

সংকট আতঙ্কে জ্বালানি মজুত: বাসা হয়ে উঠছে ‘ঝুঁকির পেট্রোলপাম্প’

বিশেষ প্রতিবেদন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। তবে বাস্তবে জ্বালানি সরবরাহে বড় কোনো সংকট না থাকলেও,...

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু

অনলাইন ডেস্ক পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার বিকেলে Islamabad-এ এ বৈঠকের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Al...

জনপ্রিয় সংবাদ