দ্য ইকোনমিক টাইমস

ভারতের স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম বর্তমানে নিম্নতম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাধারণত এই পর্যায়ে বেশি রপ্তানি আশা করা যেতেও পারে, কিন্তু পরিস্থিতি উল্টো; ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি স্থবির অবস্থায় রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে এই বিষয়টি গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মূল কারণ:
ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ থাকার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে:
১. বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধি: বাংলাদেশ সরকার এবং কৃষকরা পেঁয়াজের উৎপাদনে আত্মনির্ভর হওয়ার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। ফলে ভারত থেকে পেঁয়াজের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
২. বিকল্প উৎসের ব্যবহার: বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতীয় পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান ও চীন থেকে পণ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩. ভারতের নীতি পরিবর্তন: নয়াদিল্লি বারবার অস্থায়ীভাবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা স্থায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে অন্য উৎসের দিকে ঝুঁকেছে।
পরিসংখ্যান ও প্রভাব:
-
একসময় ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশের গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ।
-
কিন্তু গত আট মাসে বাংলাদেশ ভারত থেকে খুব সামান্য পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করেছে।
-
ঢাকার বাজারে পেঁয়াজের দাম ভারতের স্থানীয় বাজারের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি।
-
সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে খুব কম পরিমাণে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি করছে।
ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতের অস্থির রপ্তানি নীতি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর বিকল্প উৎসের খোঁজ এই সংকটের মূল কারণ।
যদিও ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী, আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি স্থবির থাকার কারণে ভারতীয় কৃষক এবং রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দেশগুলি এখন দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন উৎসের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।


