স্বাস্থ্য ডেস্ক

সুপারশপে ঢুকলেই এখন চোখে পড়ে ‘হাই-প্রোটিন’ লেবেল লাগানো নানান পণ্য। স্ন্যাক বার, দই, আইসক্রিম—এমনকি বোতলজাত পানিতেও পাওয়া যাচ্ছে বাড়তি প্রোটিনের দাবি। ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সারদের ভাষ্য, “পেশি গড়তে চান? দীর্ঘজীবী হতে চান? তাহলে বেশি করে প্রোটিন খান!”
প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের এই বাজার এখন বহু দেশেই হাজার কোটি টাকার শিল্পে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমাদের শরীরের সত্যিই কি এত প্রোটিন দরকার?
গবেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা
বিশ্বজুড়ে পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ হলো, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রোটিন চাহিদা শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য মাত্র ০.৮ গ্রাম।
অর্থাৎ ৭০ কেজি ওজনের একজন মানুষের প্রয়োজন প্রায় ৫৬–৬০ গ্রাম প্রোটিন।
তথ্য হিসেবে বলা যায়,
-
২৫০ গ্রাম রান্না করা মুরগির মাংসে থাকে প্রায় ৬৮ গ্রাম প্রোটিন— যা একজন সাধারণ মানুষের দিনের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি।
-
ডাল, ডিম, মাছ, দুধ, বাদামসহ নিয়মিত খাবার থেকেই অধিকাংশ মানুষ সহজেই প্রয়োজনীয় প্রোটিন পেয়ে যান।
ইনফ্লুয়েন্সারদের দাবি কেন বিভ্রান্তিকর হতে পারে?
ফিটনেস ও বডিবিল্ডিং জগতের অনেকেই তাদের খাদ্যচাহিদার মান সাধারণ মানুষের ওপরও প্রয়োগ করতে চান। ভারী ব্যায়াম, পেশি বৃদ্ধি বা অ্যাথলেটিক ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে প্রোটিনের চাহিদা প্রকৃতই বেশি—তবে তা সবার জন্য নয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রোটিন গ্রহণ—
-
কিডনির ওপর বাড়তি চাপ ফেলে
-
শরীরে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ায়
-
অনেক প্রক্রিয়াজাত ‘হাই-প্রোটিন’ খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সংযোজনী থাকে
ফলে “যত বেশি প্রোটিন, তত ভালো”—এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
তাহলে কাকে বিশ্বাস করবেন?
বিজ্ঞানীরা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় ট্রেন্ড নয়, বরং জীবনযাত্রা, বয়স, শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্য অবস্থা অনুসারে প্রোটিন চাহিদা নির্ধারণ করা উচিত।
সাধারণ একজন মানুষের জন্য দৈনন্দিন খাবারই যথেষ্ট। কেবল বিশেষ পরিস্থিতিতে—যেমন অ্যাথলেটিক ট্রেনিং, সার্জারির পর সেরে ওঠা বা বয়স্কদের পেশি ক্ষয় রোধ—প্রোটিন বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে এবং সেটাও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী।


