রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় ঐতিহ্যবাহী খতনা উৎসবে দুই মাসে নিহত ৪১ তরুণ

পাঠক প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক

দক্ষিণ আফ্রিকায় সাবালক হওয়ার ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব ‘খতনা’ পালন করতে গিয়ে গত দুই মাসে অন্তত ৪১ জন কিশোর ও তরুণের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ভেলেনকোসিনি হ্লাবিসা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের অধিকাংশই খতনাপরবর্তী সংক্রমণ এবং তীব্র পানিশূন্যতার কারণে প্রাণ হারিয়েছে। প্রতিবছর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার খোসা, এনদেবেলে, সোথো ও ভেন্ডা সম্প্রদায়ের কিশোর ও তরুণেরা এই ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার শিশু আইন ২০০৫ অনুযায়ী সাধারণত ১৬ বছরের বেশি বয়সীদের খতনা করানোর অনুমতি রয়েছে। এর কম বয়সীদের খতনা আইনত নিষিদ্ধ। তবে বাস্তবে বহু অনিবন্ধিত ও অবৈধ খতনা স্কুলে এই আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ভেলেনকোসিনি হ্লাবিসা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, এসব মৃত্যুর পেছনে খতনা পরিচালনাকারী স্কুলগুলোর চরম অবহেলা এবং অভিভাবকদের অসচেতনতা বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, “অনেক খতনা স্কুলে তরুণদের পানি পান করতে বাধা দেওয়া হয়। তাদের ভুল ধারণা হলো, পানি না খেলে ক্ষত দ্রুত শুকাবে। অথচ প্রচণ্ড গরমে পানিশূন্যতা মারাত্মক হয়ে ওঠে এবং তা মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।”

দেশটির আইন অনুযায়ী, খতনা পরিচালনাকারী সব স্কুলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলেও দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে অসংখ্য অনিবন্ধিত স্কুল গড়ে উঠেছে। এসব স্কুলেই অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি অনেক অভিভাবক সন্তানদের খতনা স্কুলে পাঠানোর পর নিয়মিত খোঁজখবর নেন না কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইস্টার্ন কেপ প্রদেশকে এই মৃত্যুর প্রধান হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন তরুণ। ফ্রি স্টেট প্রদেশে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের এবং অন্যান্য এলাকায় আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

মন্ত্রী হ্লাবিসা জানান, অবৈধ খতনা স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া খতনাজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২০০ তরুণ বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আফ্রিকান ঐতিহ্যে এই খতনা উৎসবকে পুরুষত্বে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হয়। নির্জন স্থানে তরুণদের রেখে সামাজিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও ঐতিহ্যগত শিক্ষা দেওয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার ছাড়াই খতনা এই আচার-অনুষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। উৎসব শেষে বাড়ি ফেরার পর বড় ধরনের উদ্‌যাপন করা হয়। তবে প্রতি বছরই এই আচার পালনের সময় বহু তরুণ পঙ্গুত্ববরণ করে কিংবা প্রাণ হারায়।

এই পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সব অংশীদার—ঐতিহ্যবাহী নেতা, অভিভাবক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—কে নিয়ে একটি জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করা হবে। সম্মেলনের লক্ষ্য হলো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান বজায় রেখে খতনা উৎসবকে নিরাপদ করা এবং ভবিষ্যতে মৃত্যুর হার শূন্যে নামিয়ে আনা।

সূত্র: এপি (Associated Press)

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ