রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

জুনের ভূ-রাজনীতি: বাংলাদেশের সামনে নতুন বাস্তবতার পরীক্ষা

পাঠক প্রিয়

পশু কুরবানির সঙ্গে সঙ্গে আত্মিক কুরবানি করতে হবে : বিএইচপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদ মুবারক। দেশবাসীকে ঈদউল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি। শুভেচ্ছা বার্তায় দলটি বলেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি,...
দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতি আবারও এক অস্থির সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। চলমান জুন মাসকে ঘিরে আঞ্চলিক কূটনীতি, সামরিক সমীকরণ, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা এমনভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে যে, পরিস্থিতি কেবল বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চলের জন্যই এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময় হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের সামনে আজ যে বাস্তবতা উপস্থিত, তা কেবল অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট বা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তনের এই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন মেরুকরণ দৃশ্যমান হচ্ছে। ভারত, চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র—প্রত্যেকেই নিজ নিজ কৌশলগত অবস্থান পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশ ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সম্ভাব্য চীন সফর, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের সম্ভাব্য ঢাকা সফর, এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির আলোচনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাংলাদেশ হয়তো তার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ভারসাম্য নতুনভাবে নির্ধারণের পথে হাঁটছে। যদিও এসব বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা সীমিত, তবু আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা এখন অত্যন্ত কঠিন। বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং উন্নয়ন ব্যয়ের চাপ সরকারকে নতুন অর্থনৈতিক অংশীদার খুঁজতে বাধ্য করছে। এই বাস্তবতায় চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি অস্বাভাবিক নয়। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশই কোনো না কোনো মাত্রায় চীনা বিনিয়োগ ও অবকাঠামো সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়।
অন্যদিকে ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত বাস্তবতায় দিল্লিকে উপেক্ষা করার সুযোগ বাংলাদেশের নেই। কিন্তু একইসঙ্গে এটিও সত্য যে, একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতি বহুমাত্রিক করতে চাইবে—এটাই স্বাভাবিক। প্রশ্ন হচ্ছে, সেই ভারসাম্য কতটা দক্ষতার সঙ্গে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতবিরোধী মনোভাব কিংবা পাকিস্তান-চীনপন্থী আবেগকে কেন্দ্র করে একধরনের রাজনৈতিক ভাষ্য তৈরি হয়েছে। তবে রাষ্ট্র পরিচালনা আবেগের বিষয় নয়; এটি কৌশল, বাস্তবতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সমন্বয়। ভারতকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে যেমন বাংলাদেশের টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়, তেমনি কোনো একটি বৃহৎ শক্তির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ছোট রাষ্ট্রগুলোর সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি। বাংলাদেশ যদি চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সমান্তরাল সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে, তাহলে সেটিই হবে সবচেয়ে কার্যকর পথ। অন্যথায় দেশটি বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসও নতুন করে স্মরণ করা প্রয়োজন। উপমহাদেশের বিভাজন, ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘ বৈরিতা, সামরিক আধিপত্যবাদ এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস পুরো অঞ্চলকে কয়েক দশক ধরে অস্থিতিশীল রেখেছে। মহাত্মা গান্ধী এবং মওলানা আবুল কালাম আজাদ যে সাম্য, সহাবস্থান ও মানবিকতার রাজনীতির কথা বলেছিলেন, আজকের দক্ষিণ এশিয়ায় সেই দর্শনের প্রয়োজন আরও বেশি।
ভারত ও পাকিস্তান যদি পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে সহযোগিতার রাজনীতি গ্রহণ করত, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আজ ভিন্ন হতে পারত। বাস্তবতা হলো, এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ছাড়া কোনো রাষ্ট্রের স্থিতিশীল উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও উদ্বেগের বিষয় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাজারকেন্দ্রিক হামলা, ধর্মীয় সহিংসতা, নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন এবং সামাজিক অস্থিরতার ঘটনাগুলো উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রাষ্ট্র যখন বৈদেশিক কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাসের পথে হাঁটে, তখন অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ দুর্বল অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বহিরাগত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি করে।
জুন মাস তাই শুধু একটি ক্যালেন্ডারের সময় নয়; এটি বাংলাদেশের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতার পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। সরকারকে যেমন বিচক্ষণতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে, তেমনি দেশের জনগণকেও আবেগ নয়, বাস্তবতা ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের আলোকে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে।
বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দেশটি কি বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার অংশ হবে, নাকি নিজস্ব স্বার্থকে কেন্দ্র করে ভারসাম্যপূর্ণ, স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তুলতে পারবে? সেই উত্তরই হয়তো নির্ধারণ করবে আগামী দিনের দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র।
সুফি সাগর সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যনিস্ট পার্টি-বিএইচপি।

সর্বশেষ সংবাদ

জুনের ভূ-রাজনীতি: বাংলাদেশের সামনে নতুন বাস্তবতার পরীক্ষা

দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতি আবারও এক অস্থির সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। চলমান জুন মাসকে ঘিরে আঞ্চলিক কূটনীতি, সামরিক সমীকরণ,...

পশু কুরবানির সঙ্গে সঙ্গে আত্মিক কুরবানি করতে হবে : বিএইচপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদ মুবারক। দেশবাসীকে ঈদউল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি। শুভেচ্ছা বার্তায় দলটি বলেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক...

জ্বালানি খাত ‘দুষ্টচক্রে বন্দি’, ভাঙতে হবে অলিগার্কিক কাঠামো: তিতুমীর

নিজস্ব প্রতিবেদক দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত একটি ‘দুষ্টচক্রে’ বন্দি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।...

নাহিদ রানার হুঙ্কার: ‘আমাকে বাউন্সার মারলে ছেড়ে কথা বলবো না’

অনলাইন ডেস্ক বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তরুণ পেসার নাহিদ রানা সম্প্রতি দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। গতি, বাউন্সার এবং আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে জাতীয় দলের অন্যতম ভরসার নাম হয়ে...

জন আব্রাহামই কি হচ্ছেন নতুন জেমস বন্ড?

অনলাইন ডেস্ক বিশ্বজুড়ে সিনেমাপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এখন—কে হচ্ছেন পরবর্তী জেমস বন্ড! সম্প্রতি Amazon MGM Studios আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, জনপ্রিয় ‘০০৭’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন কিস্তির জন্য অডিশন প্রক্রিয়া...

জনপ্রিয় সংবাদ