অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের একাধিক প্রতিবেদনে তাকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে অন্যতম শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংবাদ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জনমত জরিপ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুকূলে থাকলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।
এর আগে প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন, যা বিএনপির জন্য বড় রাজনৈতিক মোড় হিসেবে দেখা হয়।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপট
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্ষমতার সমীকরণ নতুনভাবে তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বিএনপি নতুন করে রাজনৈতিক শক্তি সঞ্চয় করেছে এবং তারেক রহমানকে সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিবার ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তারেক রহমান। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পরিবারে জন্ম নেওয়ায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
নির্বাসন জীবন ও প্রত্যাবর্তন
২০০৮ সাল থেকে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। সে সময়কার মামলাগুলোকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তিনি দেশে ফেরেন এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
নীতি ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার
তারেক রহমান জানিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে তিনি—
-
আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে ভারসাম্য আনতে চান
-
একক শক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে চান
-
দরিদ্র পরিবারে সামাজিক সহায়তা বাড়াতে চান
-
তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি খেলনা ও চামড়াজাত শিল্পে জোর দিতে চান
-
প্রধানমন্ত্রীর জন্য সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিতে চান
তিনি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বরং স্থিতিশীলতা ও সমঝোতার রাজনীতি চান বলেও জানিয়েছেন।
দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনী কৌশল
দলীয় সূত্র মতে, প্রার্থী মনোনয়ন, জোট কৌশল এবং নির্বাচনী পরিকল্পনা—সব ক্ষেত্রে তারেক রহমান সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণেও তাকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গণতন্ত্র পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি
তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন। তার ভাষায়, গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমেই দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠন সম্ভব।
রাজনৈতিক নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলের ওপর।


