
ইমতিয়াজ মারুফ সোহেল : দেশের খাদ্য ও কৃষি খাতে এখন গভীর বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। এক দিকে যেখানে কৃষক দিনরাত পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করছেন, অন্য দিকে তাদের উৎপাদিত পণ্য শহরের ভোক্তাদের প্লেটে পৌঁছানোর সময় তেমনই মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রতি কেজি ১০ টাকায় উৎপাদিত আলু শহরে এসে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই হিসেবে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই ব্যবধানই নির্দেশ করছে দেশে বাস্তব অর্থনীতি এবং ভোক্তাপ্রধান অর্থনীতির মধ্যে কতটা ফাঁক পড়েছে।
কৃষকের দুঃখের কাহিনীও চোখে পড়ার মতো। ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে অনেক কৃষক আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। উৎপাদিত পণ্যের দাম না পাওয়ায় অনেকে রাস্তায় আলু-পেঁয়াজ ফেলে প্রতিবাদ করলেও তাদের কণ্ঠ এখনো শোনা যায়নি। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেখা যায় যে ক্ষুদ্রঋণ বাজার যত বাড়ছে, কৃষকের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ততই অপ্রতুল।
অন্যদিকে দেশের খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ে সরকার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। খাদ্য সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা বলছেন, “শক্তিশালী বিতরণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। খাদ্য চাহিদা ও সরবরাহ সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” কিন্তু বাস্তবতা অন্য কথা বলছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের কৃষকরা এখনও বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে দুই অর্থনীতি দেখা দিচ্ছে: একদিকে ভোক্তা ও নগর কেন্দ্রিক উচ্চমূল্য অর্থনীতি, অন্যদিকে কৃষক কেন্দ্রিক নিম্নমূল্য অর্থনীতি। এই ফাঁক পাটানোর জন্য কার্যকর নীতি, যেমন কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, সরাসরি বাজারে সংযোগ সৃষ্টি, এবং ক্ষুদ্রঋণের যথাযথ ব্যবস্থাপনা জরুরি। না হলে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে এই বৈষম্য আরও বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি স্বরূপ।


