কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে এবার রেকর্ড পরিমাণ ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। একসঙ্গে দানবাক্স থেকে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ার ঘটনা মসজিটির ইতিহাসে নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দীর্ঘ সময় গণনা শেষে এ হিসাব পাওয়া যায়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এরশাদুল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তখন ৩ মাস ২৭ দিনে দানবাক্সে জমা হয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপাও পাওয়া যায়।
শনিবার সকাল ৭টায় মসজিদের ১১টি দানবাক্স খোলা হয়। অতীতে প্রায় চার মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলেও এবার ছয় মাস পর দানবাক্স খোলা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে দানবাক্স খোলার সময় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব উপস্থিত ছিলেন।
দানবাক্স থেকে বের করা টাকাগুলো প্রথমে বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়। পরে সেখানে মেঝেতে ঢেলে গণনা শুরু করা হয়। টাকা গণনার কাজে অংশ নেন পাগলা মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসার ১১০ জন, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন শিক্ষার্থী, মসজিদের ৩৩ জন কর্মচারী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে মোট ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশ-বিদেশের দাতাদের সুবিধার্থে পাগলা মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজেই অনুদান পাঠানো যাচ্ছে। ওয়েবসাইটের বাংলা সংস্করণও চালু হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান এসেছে, যা ডিজিটাল মাধ্যমে দান কার্যক্রমে মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দানবাক্স খোলা, টাকা গণনা এবং ব্যাংকে পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মসজিদের অর্থায়নে ২০০২ সালে মসজিদের পাশেই একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে সেখানে ১৩০ জন এতিম শিশু অধ্যয়ন করছে। তাদের শিক্ষা, ভরণপোষণ ও পোশাকসহ যাবতীয় ব্যয় মসজিদের তহবিল থেকে বহন করা হয়। এছাড়া ওয়াকফ এস্টেটের অডিটর প্রতি বছর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে মসজিদের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন।


