অনলাইন ডেস্ক

ক্রুড অয়েল বহনকারী চীনা তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি কায়রোস’ মিশরের সুয়েজ বন্দর থেকে রাশিয়ার কৌশলগত বন্দর নভোরোসিস্ক-এর উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। তবে কৃষ্ণ সাগর অতিক্রমের সময় তুরস্কের জলসীমায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ‘ড্রোন বোট’ থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটি ভয়াবহ হামলার শিকার হয়।
২৭৫ মিটার দীর্ঘ বিশাল এই ক্রুড অয়েল ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর জাহাজটিতে তাৎক্ষণিকভাবে বিরাট অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মাত্র দুই ঘণ্টার মাথায় কর্তৃপক্ষ জাহাজটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
হামলার পরপরই তুরস্কের কোস্ট গার্ড বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। তাঁরা আগুনে জর্জরিত ‘এমটি কায়রোস’ থেকে ২৫ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি রয়েছেন। কেউ গুরুতরভাবে আহত না হলেও হামলার আতঙ্ক তাঁদের চেতনায় গভীর দাগ রেখে গেছে।
উদ্ধার হওয়া নাবিকদের বর্তমানে তুরস্কেই চিকিৎসা ও প্রাথমিক মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জাহাজটি সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানায়নি মালিকপক্ষ।
ইউক্রেন–রাশিয়া সংঘাতের মধ্যে কৃষ্ণ সাগর ও আশপাশের নৌপথে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে—এই ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা এমন মত প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে বেসামরিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে তাঁরা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।
খবর: বিডিনিউজ


