বিশেষ প্রতিবেদক

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক চাপ সত্ত্বেও স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে টেকসই উত্তরণে সঠিক পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। তবে উত্তরণ–পরবর্তী সময় মোকাবিলায় বেশ কিছু নতুন ও পুরোনো চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে বলে মত দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)–র কাছে পাঠানো প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারের প্রতিবেদনে বলা হয়, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি সামগ্রিকভাবে সন্তোষজনক হলেও কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা রয়ে গেছে। প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে—আর্থিক খাতের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিতে ঝুঁকি বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, যুব বেকারত্ব এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তাপ। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতাকেও অতিরিক্ত ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এলডিসি উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় রপ্তানি খাতের জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা স্থাপন, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শ্রমবাজারে দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে।
আগামীকাল জাতিসংঘের সিডিপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে অংশ নেবেন অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা। সেখানে বাংলাদেশের প্রস্তুতি, অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।
সরকার আশা করছে, সময়োপযোগী নীতি গ্রহণ ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলডিসি থেকে উত্তরণ–পরবর্তী ধাক্কা মোকাবিলা করে বাংলাদেশ টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।


