বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

আমরা সবাই জানি, মহাবিশ্বে আলোর গতির চেয়ে দ্রুত কিছুই ছুটতে পারে না। কিন্তু মহাবিশ্ব যেন তার নিজস্ব নিয়ম মেনে চলে না — বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে আলোর থেকেও দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে এটি।
কীভাবে সম্ভব এটি? বিষয়টি বোঝার জন্য আমাদের দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলোর দিকে তাকাতে হবে। টেলিস্কোপে আমরা যখন কোনো গ্যালাক্সি দেখি, আসলে আমরা সেটির অতীত দেখছি। কারণ সেই আলো আমাদের কাছে পৌঁছাতে কোটি কোটি বছর সময় নিয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে মহাবিশ্ব স্থির ছিল না।
মহাবিশ্ব ঠিক বেলুনের মতো ফুলেফেঁপে প্রসারিত হয়েছে। ফলে গ্যালাক্সিটি যখন আলো পাঠিয়েছিল, তখন যেখানে ছিল, তার বর্তমান অবস্থান সেই জায়গার চেয়ে বহুগুণ দূরে চলে গেছে। অর্থাৎ, আলো আমাদের কাছে আসার সময় মহাবিশ্বের প্রসারণের কারণে ওই গ্যালাক্সিটি আলোর গতির চেয়েও ‘দূরে চলে গেছে’।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং মহাবিশ্বের বিস্তারগত প্রকৃতিরই একটি ফল। এই বিস্তার থেকেই আমরা মহাবিশ্বের শুরু, তার বৃদ্ধির হার এবং গ্যালাক্সির অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে পারি।
তাহলে কি আইনস্টাইনের নিয়ম ভাঙল
না, নিয়ম ভাঙেনি। আইনস্টাইনের রিলেটিভিটি তত্ত্ব বলে, কোনো বস্তু মহাকাশের ভেতর দিয়ে আলোর চেয়ে দ্রুত চলতে পারে না। আপনি কখনোই দেখবেন না একটা রকেট আপনার পাশ দিয়ে আলোর চেয়ে জোরে হুশ করে বেরিয়ে গেল।
কিন্তু মহাকাশ বা স্পেস নিজেই যদি প্রসারিত হয়? আইনস্টাইন সে ব্যাপারে কিন্তু কিছু বলেননি। মানে মহাকাশ নিজে যে আলোর চেয়ে দ্রুত গতিতে ছুটতে পারবে না, তা আইনস্টাইন বলেননি। দূরের গ্যালাক্সিগুলো নিজেরা ছুটছে না, বরং তাদের আর আমাদের মাঝখানের শূন্যস্থানটা রাবারের মতো লম্বা হচ্ছে। আর তা আলোর চেয়েও দ্রুত হতেই পারে।
মহাবিশ্ব, সত্যিই, অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর!


