
বিশেষ প্রতিবেদক : ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের শাসনামলে অসৎ ব্যবসায়ী রাজনীতিক, অতিউৎসাহী আমলা, উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তা, এনএসআই ও ডিজিএফআই ছিল অপ্রতিরোদ্ধ। মূলত: তারাই দেশের রাজনীতি ও শাসনতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করত। তাদের জুলুম অত্যাচার ছিল সীমাহীন। গুম, খুন, বিচারবহির্ভুত হত্যা, নির্যাতন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ফলে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে সরকার। সরকার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারবে না। শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ পলাতক বা বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে কারাগারে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কোন পথে-সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। কিন্তু দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব অনমনীয়, তাঁদের মধ্যে অনুশোচনা নেই।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রীর যে মনোভাব জানা যাচ্ছে, তা হলো আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যাতে দলটিকে অন্তর্ভুক্ত করে অনুষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা। বিদেশে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের পতন ঘটানো ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। এটা সম্ভব না হলে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হতে না পারে, সেই চেষ্টা করবে দলটি।
এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে জানা গেছে, শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে অনমনীয় মনোভাব বিরাজ করছে; অনুশোচনা নেই এবং তারা দলটির রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর গত দুই দিনে আত্মগোপনে থাকা কেন্দ্রীয় নেতা এবং সাবেক মন্ত্রীরা মূলত দুটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন:
১. আগামী নির্বাচন যাতে আওয়ামী লীগকে অন্তর্ভুক্ত করে অনুষ্ঠিত হয় তা নিশ্চিত করা।
২.অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের পতন ঘটানো, যা ছাড়া তাদের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
তবে বিদেশে আশ্রয় নেওয়া নেতাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের পতন সম্ভব না হলে দলটি পরবর্তী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হতে না পারে, সে চেষ্টা চালাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গভীর সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের অনমনীয়তা এবং ক্ষমতা পুনঃপ্রয়াস দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনই উত্তেজনা এবং অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিরাজ করছে, যা আগামী নির্বাচনের ফলাফলের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।


