অনলাইন ডেস্ক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী দিনে কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদ-এর ত্রয়োদশ অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার প্রশ্নে এলাকার সড়ক ব্যবস্থার দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে কাঁচা সড়কের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশেষ করে চরাঞ্চলে রাস্তা না থাকায় কৃষকরা সময়মতো পণ্য বাজারজাত করতে পারেন না, ফলে ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হন।
তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, কাউনিয়া উপজেলায় ৫৩৫ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে মাত্র ১৯৮ কিলোমিটার পাকা, আর ৩৩৭ কিলোমিটার কাঁচা। পীরগাছায় ৮৪২ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ২৫১ কিলোমিটার পাকা এবং ৫৯১ কিলোমিটার কাঁচা। পুরো আসনে মোট ১ হাজার ৩৭৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৮৮৮ কিলোমিটার এখনো পাকাকরণ বাকি রয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে তিনি জানতে চান, স্থানীয় পর্যায়ের সড়ক উন্নয়নে রুটিন কাজের বাইরে বিশেষ কোনো মেগা প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কিনা।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, অতীতে উন্নয়নের নামে গৃহীত মেগা প্রকল্পগুলোতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিজ নিজ এলাকায় বেশি বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে উত্তরাঞ্চলের সড়ক উন্নয়ন উপেক্ষিত থেকেছে।
তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
মন্ত্রী আশ্বাস দেন, গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করবে, যাতে কৃষি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাও শক্তিশালী হয়।


