নিজস্ব প্রতিবেদক

দাসত্ব, বর্ণবাদ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদারে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-এ ‘আন্তর্জাতিক দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের শিকারদের স্মরণে’ আয়োজিত এক স্মারক সভায় এ আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
সভায় বক্তব্যে তিনি দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের লক্ষ লক্ষ শিকারদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রামকারী মানুষের অদম্য মনোবলের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্য মানবজাতির ইতিহাসে এক গভীর ও স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাসত্ব, বর্ণবাদ, গণহত্যা ও সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সংবিধান সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও বৈষম্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং নিপীড়িত জনগণের প্রতি দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করে।
তিনি আরও বলেন, ১৯২৬ সালের দাসত্ববিষয়ক কনভেনশন এবং প্রায় আট দশক আগে গৃহীত মানবাধিকার সনদে দাসত্বকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে দাসত্ব বিলুপ্ত হয়েছে, এর প্রভাব এখনো বিশ্বজুড়ে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় বিদ্যমান।
ড. রহমান মানব পাচার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার, ডিজিটাল ফরেনসিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং দাসত্বের ইতিহাস ও এর মানবিক ক্ষতি নিয়ে শিক্ষা ও সংলাপে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলা যায় যেখানে দাসত্ব, বৈষম্য ও অন্যায়ের কোনো স্থান থাকবে না এবং মানব মর্যাদা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে।


