অনলাইন ডেস্ক

দেশে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোকে বিদেশি ব্যাংক গ্যারান্টি ও স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এসবিএলসি) এর বিপরীতে টাকায় ঋণ দেওয়ার বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণ অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রবিবার (১৫ মার্চ) জারি করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭–এর ধারা ১৮(২) অনুযায়ী।
ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়বে
নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশি মালিকানাধীন বা বিদেশি নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানসহ দেশে বসবাসকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর জারি করা এফই সার্কুলার নং-৩৪–এর ৩ ও ৬(১) অনুচ্ছেদে বিদেশে অবস্থিত গ্যারান্টি বা জামানতের বিপরীতে ঋণ প্রদানে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা শিথিল করা হয়েছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখন কোম্পানির মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নির্বিশেষে বিদেশি গ্যারান্টির বিপরীতে টাকায় ঋণ দিতে পারবে। তবে এ ধরনের অর্থায়ন প্রচলিত ঋণনীতি, সতর্কতামূলক আর্থিক মানদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক শর্ত মেনে পরিচালনা করতে হবে।
গ্যারান্টির ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত
দেশীয় ঋণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশি গ্যারান্টি সংক্রান্ত কিছু কঠোর মানদণ্ডও নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নির্দেশনা অনুযায়ী—
-
বিদেশি ব্যাংক গ্যারান্টি বা এসবিএলসি অবশ্যই নিঃশর্ত, অপরিবর্তনীয় এবং প্রথম দাবিতেই পরিশোধযোগ্য হতে হবে।
-
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো রেটিং এজেন্সি থেকে সন্তোষজনক ক্রেডিট রেটিংপ্রাপ্ত বিদেশি ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব গ্যারান্টি ইস্যু করতে হবে।
-
ঋণদাতা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ঋণনীতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
এ ছাড়া দেশীয় ঋণগ্রহীতা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বিদেশি গ্যারান্টির বিপরীতে কোনো ফি, কমিশন বা অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে পারবে না বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনগত যাচাইয়ের নির্দেশ
ঋণ বিতরণের আগে বিদেশি গ্যারান্টি বা এসবিএলসি সংক্রান্ত আইন, বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি ও আইনি কার্যকারিতা যথাযথভাবে যাচাই করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলে এবং বিদেশি গ্যারান্টি বা এসবিএলসি নগদায়ন করতে হলে তা অবিলম্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে।
আর্থিক সক্ষমতা যাচাই বাধ্যতামূলক
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ঋণ দেওয়ার আগে গ্রাহকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য আর্থিক সূচকের ভিত্তিতে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা ও ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা যাচাই করতে হবে।
এসবিএলসি বা ব্যাংক গ্যারান্টি নবায়নের মাধ্যমে ঋণ অব্যাহত রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সে উন্নতির প্রমাণ থাকতে হবে। এর মধ্যে টার্নওভার, মুনাফা ও নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং সন্তোষজনক হিসাব পরিচালনার রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
গ্যারান্টি নগদায়নের পর অর্থ ব্যবস্থাপনা
সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিদেশি গ্যারান্টি কার্যকর হলে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ বিদেশি গ্যারান্টার ও দেশীয় ঋণগ্রহীতার মধ্যকার ব্যবস্থার ভিত্তিতে গাইডলাইনস ফর ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজ্যাকশনস-২০১৮ অনুযায়ী ইক্যুইটি বিনিয়োগ বা ঋণ হিসেবে প্রতিবেদন করতে হবে।
তবে ঋণ হিসেবে প্রতিবেদন করা হলে তা পরবর্তীতে পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-২-এর পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও ঋণ সংক্রান্ত অন্যান্য বিদ্যমান নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।
সূত্র: বাসস


