সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬

মনস্তত্ত্ববিদ থেকে অভিনেত্রী—বাবার জন্যই অভিনয়ে আসেন যশমা গিল

পাঠক প্রিয়

শোবিজ ডেস্ক

পর্দায় যাকে সবসময় হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত চরিত্রে দেখা যায়, সেই জনপ্রিয় পাকিস্তানি অভিনেত্রী যশমা গিলের অভিনয়জীবনের শুরুটা ছিল বেশ সংগ্রামের। সম্প্রতি এআরওয়াই ডিজিটালের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘শান-এ-সেহুর’-এ অংশ নিয়ে তিনি নিজের জীবনের এক অজানা গল্প তুলে ধরেন।

যশমা গিল জানান, অভিনয়ে আসার আগে তিনি একজন পেশাদার মনস্তত্ত্ববিদ হিসেবে কাজ করতেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তার বাবা-মা তাকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠান। সেখানে সাইকোলজিতে ডিগ্রি সম্পন্ন করে দেশে ফিরে তিনি করাচির একটি হাসপাতালে চাকরি শুরু করেন।

তবে সেই চাকরির পারিশ্রমিক ছিল খুবই কম। একদিন গভীর রাতে হাসপাতালের শিফট শেষ করে বাসায় ফিরে তিনি দেখেন, ভোর ছয়টায় তার বৃদ্ধ বাবা কাজের উদ্দেশ্যে বের হচ্ছেন। বাবার এই পরিশ্রম তাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, যেকোনোভাবে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবেন। সেই ভাবনা থেকেই তিনি অভিনয়জগতে পা রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি জানান, নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা প্রথমে মাকে জানান। তখন তিনি মাকে বলেন, বাবা রাগ করলেও তার উদ্দেশ্য সৎ—কারণ তিনি কেবল পরিবারের পাশে দাঁড়াতেই এই পথ বেছে নিচ্ছেন।

তবে মেয়ের এই সিদ্ধান্ত সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি তার বাবা। শোবিজ জগত নিয়ে রক্ষণশীল মানসিকতা ও নানা ভুল ধারণার কারণে তিনি প্রায় এক বছর মেয়ের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন। মা পাশে থাকলেও বাবার এই নীরবতা তাকে ভীষণ কষ্ট দিত।

অবশেষে এক রমজান মাসে তাদের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। যশমা জানান, একদিন তার বাবা ঘরে ঢুকলে তিনি তাকে সালাম দেন এবং মনে করিয়ে দেন যে ইসলামে সালামের উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই ছোট্ট ঘটনার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়।

পরে তিনি যখন বাবাকে সঙ্গে নিয়ে ওমরাহ পালন করতে যান, তখন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। সেখানে অনেক মানুষ তার কাজের প্রশংসা করেন এবং ভালোবাসা প্রকাশ করেন। এমনকি কেউ কেউ তাকে উপহারও দেন। পবিত্র মক্কায় মানুষের সেই সম্মান ও ভালোবাসা দেখে তার বাবার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।

যশমা বলেন, তখনই তার বাবা বুঝতে পারেন যে মেয়ের পথ ভুল নয়। মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দেখে শেষ পর্যন্ত তিনি মেয়ের পেশা নিয়ে গর্ববোধ করতে শুরু করেন।

সূত্র: ডন

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ