শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

আলেমরা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করছে : সুফি সাগর সামস্

পাঠক প্রিয়

আজকের বিশ্ব যখন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তির খোঁজে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত, তখন দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষত বাংলাদেশে এক শ্রেণির ধর্মীয় ব্যবসায়ী নিজেদের স্বার্থে মানুষের আবেগকে পুঁজি করছে। উন্নত বিশ্ব বায়ু ও আলোর ভেতরে লুকিয়ে থাকা আল্লাহর দানকৃত গুপ্তধন—অর্থাৎ সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, হাইড্রোজেন এনার্জি ইত্যাদি—আবিষ্কার করে টেকসই উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের কিছু গোষ্ঠী এখনো মানুষের ধর্মীয় আবেগকে ভয় ও প্রলোভনের শিকলে আটকে রেখে সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান কিংবা চীন নবায়নযোগ্য শক্তিকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারে পরিণত করেছে। সৌরশক্তি দিয়ে শিল্পকারখানা, ঘরবাড়ি ও যানবাহন চালানো হচ্ছে। বায়ুশক্তি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কোটি কোটি মানুষকে সাশ্রয়ী শক্তি সরবরাহ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ গবেষণা, বায়োটেকনোলজি—সব ক্ষেত্রেই তারা অদম্য অগ্রগতি দেখাচ্ছে। তাদের কাছে ধর্ম একান্তই ব্যক্তিগত অনুশীলন; ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী মুহম্মদ (স) প্রণিত সংবিধান “মদিনা সনদ” এর ভিত্তিতে যে ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করা হয়েছিল, সেই রাষ্ট্র ব্যবস্থায়ও ধর্ম একান্তই ব্যক্তিগত অনুশীলণ ছিল; রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো অন্ধ বিশ্বাস নয়, বরং বিজ্ঞান ও যুক্তিই প্রধান চালিকা শক্তি।
অন্যদিকে বাংলাদেশে এক শ্রেণির মুসলমান নেতা-কথিত আলেমরা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করছে। তারা জান্নাতের লোভ আর জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণে রাখছে। ইসলামের পবিত্র আদর্শকে বিকৃত করে কখনো মাজার ভাঙার নামে, কখনো পাগল ফকিরদের জোর করে মাথা ন্যাড়া করার মাধ্যমে তারা অস্থিরতা ছড়াচ্ছে। প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে ধর্মীয় ইমোশনকে হাতিয়ার করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। এই প্রক্রিয়ায় সমাজ বিভক্ত হচ্ছে, সহিংসতা বাড়ছে, আর উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে দেশ পিছিয়ে পড়ছে।
ধর্মীয় আবেগের পুঁজি করে রাজনীতি একদিকে গণমানুষকে অন্ধকারে বন্দি করে রাখছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে দুর্বল করছে। যখন উন্নত বিশ্ব চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের নেতৃত্ব নিচ্ছে, তখন ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নামে কিছু গোষ্ঠী দেশকে পশ্চাৎপদ করে রাখছে। এতে করে শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র পিছিয়ে পড়ছে, আর দারিদ্র্য ও বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে।
বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—ধর্মীয় আবেগকে অপব্যবহারকারীদের হাত থেকে মুক্ত হয়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের পথে হাঁটা। ইসলাম কখনো অন্ধকার, ভীতি বা প্রলোভনের ধর্ম নয়; বরং জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ন্যায়ভিত্তিক সভ্যতার ধর্ম। তাই যদি সত্যিকার অর্থে আল্লাহর দানকে কাজে লাগাতে চাই, তবে আমাদেরও বায়ু, আলো ও বিজ্ঞানের গুপ্তধনকে আহরণ করতে হবে।
সুফি সাগর সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ