অনলাইন ডেস্ক

টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাকাশের অসংখ্য গ্যালাক্সি দেখা যায়, তবে মহাবিশ্বের বড় বড় বস্তুতেই সবচেয়ে বেশি পদার্থ রয়েছে—এমন ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাবিশ্বের মোট উপাদানের প্রায় ৫ শতাংশই সাধারণ পরমাণু দিয়ে তৈরি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা এই পদার্থের “হদেখা” অবস্থান খুঁজে পেতেই ব্যর্থ ছিলেন।
নতুন গবেষণায় জানা গেছে, এই হারিয়ে যাওয়া পদার্থ মূলত গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় ও ইন্টারগ্যালাকটিক অঞ্চলে লুকিয়ে রয়েছে। মহাকাশের শূন্য মনে হলেও সেখানে রয়েছে বিরল পরিমাণে গ্যাস, যা গঠিত এক ধরনের কসমিক ওয়েব। এই গ্যাস তাপমাত্রায় লাখ লাখ ডিগ্রি, তাই এক্স-রে টেলিস্কোপ ছাড়া দেখা যায় না।
বিজ্ঞানীরা ফাস্ট রেডিও বার্স্ট (FRB) ব্যবহার করে এই অদৃশ্য পদার্থের পরিমাণ নির্ণয় করেছেন। FRB হলো এক মিলিসেকেন্ডের মধ্যে প্রচণ্ড শক্তিশালী রেডিও তরঙ্গের বিস্ফোরণ, যা দূরবর্তী গ্যালাক্সির নিউট্রন নক্ষত্র বা ম্যাগনেটার থেকে আসে। মহাকাশ পেরিয়ে আসার সময় এই রেডিও সংকেত ইন্টারগ্যালাকটিক গ্যাসের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার কারণে ধীরে ছড়িয়ে যায়। এর ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা হিসাব করতে পেরেছেন, গ্যাসের ভেতর দিয়ে কতটা পদার্থ গেছে।
২০২৫ সালের জুনে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, মহাবিশ্বের সাধারণ পদার্থের প্রায় ৭৬ শতাংশ গ্যালাক্সিগুলোর মাঝখানে, ১৫ শতাংশ গ্যালাক্সির হ্যালোতে এবং ৯ শতাংশ নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির ভেতরের ঠান্ডা গ্যাসে রয়েছে। ফলে বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী প্রায় ৫ শতাংশ সাধারণ পদার্থের পূর্ণ হিসাব পাওয়া গেছে।
তবে মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় অংশ এখনও অজানা। ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি মহাবিশ্বের বেশিরভাগ ভর ও শক্তি গঠিত করছে। ডার্ক এনার্জি মহাবিশ্বকে দ্রুত প্রসারণ ঘটাচ্ছে, আর ডার্ক ম্যাটার গ্যালাক্সি ও বড় কাঠামোকে একসাথে ধরে রাখছে।
ফলে মহাবিশ্বের হারিয়ে যাওয়া পদার্থের রহস্য সমাধান হলেও, অদৃশ্য শক্তির রহস্য এখনো রয়ে গেছে। তবে এখন অন্তত জানা গেছে, আমাদের চারপাশের দৃশ্যমান মহাবিশ্ব কোথায় অবস্থান করছে, যা বিজ্ঞানের জন্য বড় অর্জন।


