ইব্রাহিম খলিল বাদল

দেশের মানুষ দীর্ঘদিন পর ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন নানা উদ্যোগ নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা মেনে ভোটের পরিবেশ তৈরি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাঠপ্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনী একযোগে কাজ করছে।
ইসির নির্দেশনা বাস্তবায়নই বর্তমানে মাঠ প্রশাসনের প্রধান কাজ। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, আচরণবিধি মেনে চলা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জেলা-উপজেলার কর্মকর্তারা নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ২৪ ডিসেম্বর ইসি সব জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) সঙ্গে বৈঠক করবে, যেখানে নির্বাচনের কাজ ও কর্মকর্তাদের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে, প্রতিটি জেলার ডিসি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারসহ ৬৪ জেলার ডিসিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এবারই প্রথম সংসদের সাধারণ নির্বাচনে তিনজন আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়েছে। মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে কমিশন।
ফিল্ড প্রশাসন ইতিমধ্যেই কেন্দ্রে ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি শুরু করেছে। নতুন কর্মকর্তারা যোগদানের পর স্থানীয় সমস্যা শনাক্ত করে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন। জেলা প্রশাসকরা জানিয়েছেন, প্রতিটি জেলার চ্যালেঞ্জ ভিন্ন। সেই অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের পরিবেশ নিয়ে সমন্বিত কাজ চলছে।
ডিসিরা জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিতকরণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি জেলার ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সিনিয়র সহকারী সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তা দায়িত্ব ভাগাভাগি করেছেন। ইউএনওরাও নির্বাচনি এলাকায় সার্বিক নজরদারি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব পালন করছেন।
ইসি ইতিমধ্যেই রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় নিরাপদ করার নির্দেশ দিয়েছে। নির্বাচনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি, যন্ত্রপাতি ও মালামাল সংরক্ষণের জন্য যথেষ্ট পুলিশ ফোর্স মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আউয়াল মজুমদার বলেন, “রিটার্নিং কর্মকর্তা এলাকায় জনমতের সঙ্গে ঘন ঘন যোগাযোগ রাখেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করেন, ভোটকেন্দ্রে পোলিং অফিসারদের মোটিভেট করেন। এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তাও বিশেষভাবে জোরদার করা হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ সম্ভব।”
এভাবে মাঠ প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশন একযোগে কাজ করলে দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।


