ইশতিয়াক মাহমুদ মানিক

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু বিতর্কিত বক্তব্য এবং ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, যা দেশে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। বিশিষ্টজনরা মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের অর্জন রক্ষা এবং জাতির সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করতে বিতর্ক নয়, বরং সঠিক ইতিহাস চর্চা জরুরি। কারণ, বাংলাদেশের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি হল মহান মুক্তিযুদ্ধ।
আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হল স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শহীদ জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মাধ্যমে সফল হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। একইভাবে ১৯৯০-এর গণ অভ্যুত্থান ও ২০২৪ সালের চব্বিশের গণ আন্দোলনও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলো স্বৈরাচার ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণজাগরণের প্রতীক।
মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতিফলন। এ নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। ঘর, সমাজ বা রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে মতবিরোধ হতে পারে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করলে দেশের অস্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতি প্রথমবারের মতো স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২০২৪-এর গণ অভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধের স্পিরিটকে ধারণ করে দেশ গড়ার প্রচেষ্টা। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন, আদর্শ ও অভীষ্ট এবং জুলাই গণ অভ্যুত্থানের লক্ষ্য একই সূত্রে গাঁথা—সমতা, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীন সহাবস্থান এবং সুশাসিত, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণ। একাত্তরে যেমন স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছে মানুষ, চব্বিশের যোদ্ধারাও একই প্রেরণায় কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণ অভ্যুত্থান আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের ভিত্তি। এগুলোকে সম্মান এবং সঠিকভাবে স্বীকার করার মাধ্যমে দেশই এগিয়ে যেতে পারে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকলে দেশের ক্ষতি হবে। তাই দেশের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনকে মুক্তিযুদ্ধের স্পিরিটকে ধারণ করেই দেশ পরিচালনা একান্ত আবশ্যক।


