অনলাইন ডেস্ক

ফেনী, ১৪ জানুয়ারি: ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ফেনীতে ঘটে যাওয়া ছাত্র আন্দোলন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বড় ধরনের আদালত পদক্ষেপ নিল। ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালত, বিচারক মোহাম্মদ হাসানের আদালতে কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় ১৭১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
এটি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের করা ২২টি মামলার মধ্যে প্রথম চার্জশিট গ্রহণের ঘটনা।
মামলার পটভূমি
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা অসহযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় মাহবুবুল হাসান মাসুমকে মাথায় গুলি করা হয়, তিনি আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। মাহবুবুল সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তরাব পাটোয়ারী বাড়ির মৃত মাওলানা নোমান হাসানের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়া আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন।
মৃত্যুর পরই ৪ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী হিসেবে মাহবুবুলের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ১৬২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
চার্জশিট ও অভিযোগপত্র
মামলায় মোট ২২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়, যার মধ্যে ১৫৬ জন এজাহারনামীয় ও ৬৫ জন অজ্ঞাত। তদন্তে সরাসরি জড়িত নয় এমন ১০ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া ২২টি মামলার মধ্যে ৭টি হত্যা এবং ১৫টি হত্যাচেষ্টা মামলা। এসব মামলায় ২,১৯৯ জন এজাহারনামীয় ও ৪,০০০ জন অজ্ঞাত আসামি রয়েছে। ইতিমধ্যেই এক হাজারের বেশি আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে ১১ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহির উদ্দিন মামুন জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের সরাসরি নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীকে। এছাড়া মূলত পুলিশের তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদের চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে কোন রাজনৈতিক দল সংশ্লিষ্টতা বিবেচনা করা হয়নি।
উল্লেখযোগ্য আসামিরা
মাহবুবুল হত্যা মামলায় উল্লেখযোগ্য অন্য আসামির মধ্যে রয়েছেন:
-
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
-
ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী
-
ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী
-
সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল
-
পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী
-
ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল
-
দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির রতন
-
পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল
-
সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন
-
যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম পিটু
-
যুবলীগ নেতা জিয়া উদ্দিন বাবলু
মামলার বর্তমান অবস্থা
-
চার্জশিট গ্রহণের পর আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
-
মামলা চলমান থাকায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
এ মামলার ফলে ফেনী জেলার ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক দায়দায়িত্ব বিষয়ে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হলো।


