মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

হাই কোর্টে জামিন, চেম্বার আদালতেও বহাল—কারাগার থেকে মুক্ত স্বাস্থ্যের মাফিয়া মিঠু

পাঠক প্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য খাতে সিন্ডিকেট গড়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতেও ওই জামিন বহাল থাকে। নীরবে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাটি গণমাধ্যমের অগোচরে ছিল; তবে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে নথিপত্র পর্যালোচনা করে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

দুদক ও মিঠুর আইনজীবী—দু’পক্ষই জামিনের বিষয়টি পরে নিশ্চিত করেছেন।

হাই কোর্টের আদেশ ও তার পরবর্তী ঘটনা

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৭ নভেম্বর বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ মিঠুকে জামিন প্রদান করেন। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ মামলায় জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে ওই আদেশ দেওয়া হয়।

এরপর জামিন স্থগিত চেয়ে দুদক আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করলে ১ ডিসেম্বর চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ (কোনো আদেশ নয়) দেন। ফলে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকে। এর পরদিন, ২ ডিসেম্বর, হাই কোর্টের জামিনাদেশটি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

চেম্বার আদালতে দুদকের আবেদন নিষ্পত্তিহীন থাকার অর্থ হচ্ছে—হাই কোর্টের আদেশই বহাল থাকে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন বলে জানা গেছে।

জামিন প্রশ্নে রুল জারি হয়েছিল আগে

এর আগে ২৬ অক্টোবর বিচারপতি কে এম হাফিহুল আলম ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ মিঠুকে কেন জামিন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। দুদকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

রুলের শুনানি এবং পক্ষগুলোর ব্যাখ্যা গ্রহণের পরই ২৭ নভেম্বর জামিনের আদেশ দেন ভিন্ন এক হাই কোর্ট বেঞ্চ।

বিশ্লেষণ: নীরব আদালতযাত্রা ও নজর এড়িয়ে যাওয়া মুক্তি

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে মিঠুর এ মামলাটি চলমান ছিল। তবে এত গুরুত্বপূর্ণ মামলার জামিন–বিষয়ক আদালত প্রক্রিয়া গণমাধ্যমে কোথাও প্রকাশ না পেয়ে একেবারেই আড়ালে ছিল। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে তথ্য পর্যবেক্ষণের পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘নো অর্ডার’ দেওয়া মানে চেম্বার আদালত হাই কোর্টের আদেশে হস্তক্ষেপ না করায় ওই জামিন বলবৎ থাকে। ফলে দুদকের স্থগিতাদেশ চাওয়ার উদ্যোগ এখানেই থেমে যায়।

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ