সোমবার, মে ১১, ২০২৬

শোকের ছায়া পেরিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি, লক্ষ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন

পাঠক প্রিয়

ইসতিয়াক মাহমুদ মানিক

টানা ৪১ বছর দলের শীর্ষ পদে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত বিএনপি এখন সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তরের চেষ্টা করছে। দলীয়ভাবে ঘোষিত সাত দিনের শোক কর্মসূচি শেষের পথে—আর তার পরপরই ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

এই প্রেক্ষাপটে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম বৈঠক। বৈঠকে অংশ নেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকটি ছিল নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতির একটি স্পষ্ট সূচনা, যেখানে সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠন, প্রার্থী ও প্রচারকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “শোক আমাদের দুর্বল করেনি, বরং সংগঠিত করেছে। খালেদা জিয়ার আদর্শকে সামনে রেখেই আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি।”

‘চব্বিশোত্তর নতুন বাংলাদেশ’—বিএনপির লক্ষ্য ও কৌশল

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ‘চব্বিশোত্তর নতুন বাংলাদেশ’ গড়াই এবারের নির্বাচনে বিএনপির মূল রাজনৈতিক বার্তা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে দলটি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে রাজনৈতিক চাপ, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্বসংকটে ভোগা বিএনপি নির্বাচন ঘোষণার পর ধীরে ধীরে সেই স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছিল।

তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন সেই পুনর্জাগরণকে গতি দিয়েছে। রাজধানীতে তারেক রহমানকে ঘিরে সুবিশাল গণজমায়েত এবং বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় স্মরণকালের জনসমাগম—দুটিই দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের ধারণা, এই আবেগ ও সংহতি নির্বাচনে বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে।

ঢাকার এক জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা বলেন, “দীর্ঘদিন পর আমরা সরাসরি নেতৃত্বের নির্দেশনা পাচ্ছি। তারেক রহমানের উপস্থিতি মাঠের কর্মীদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে।”

নেতৃত্বের রূপান্তর: তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক অভিষেকের অপেক্ষা

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭(গ) ধারা অনুযায়ী, চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরিন ও অসুস্থ থাকাকাল থেকেই সেই দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তারেক রহমান। চেয়ারপারসনের জীবনাবসানের পর তিনি গঠনতান্ত্রিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ রাতে আহূত জাতীয় স্থায়ী কমিটির নিয়মিত বৈঠকেই তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন এবং বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।

এ বিষয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, “দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার।”

নির্বাচনি প্রস্তুতি ও তারেক রহমানের ভূমিকা

ইতিমধ্যে নির্বাচন পরিচালনায় ৪১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের সব প্রস্তুতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তারেক রহমান। গুলশান কার্যালয়ে টানা সময় দিয়ে তিনি সাংগঠনিক ও নির্বাচনি নানা বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। মিত্র দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময়ও করছেন তিনি।

এক মিত্র দলের শীর্ষ নেতা জানান, “বিএনপি এখন নির্বাচনের জন্য বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে চায়। আলোচনায় তারেক রহমান খুবই নির্দিষ্ট ও ফলপ্রসূ দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।”

নির্বাচনি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে তারেক রহমান নিজের একান্ত সচিব ও প্রেস সচিব নিয়োগ দিয়েছেন। ১১ জানুয়ারি তিনি নিজের নির্বাচনি এলাকা বগুড়ায় যাচ্ছেন। সড়কপথে এই সফরের মধ্য দিয়ে তাঁর নির্বাচনি প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

প্রচার-প্রচারণায় ছবি ব্যবহার নিয়ে জটিলতা

নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় একটি বাস্তব জটিলতাও সামনে এসেছে। নির্বাচনি প্রচারের ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেটে কার ছবি ব্যবহার করা হবে—এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫-এর বিধি ৭(চ) অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত প্রার্থী কেবল নিজের বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন, তাও পোর্ট্রেট আকারে। ফলে তারেক রহমানের চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলে প্রচারণায় ছবি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে দলকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

শোক থেকে ঐক্য—নির্বাচনের বৈতরণি পার হওয়ার চ্যালেঞ্জ

বেগম খালেদা জিয়ার অভাব যে পূরণ হওয়ার নয়—এ বিষয়ে দলীয় নেতারা একমত। তবে তাঁরা মনে করছেন, এই শোকই দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে। শোক কর্মসূচি শেষ হতেই পূর্ণোদ্যমে ভোটের মাঠে নামতে প্রস্তুত ধানের শীষের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা।

এই নতুন বাস্তবতায় বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—দলীয় ঐক্য বজায় রেখে শোককে শক্তিতে পরিণত করা এবং নির্বাচনের বৈতরণি পার হওয়া।

দলের একজন স্থায়ী কমিটির সদস্যের ভাষায়, “এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি বিএনপির রাজনৈতিক পুনরুত্থানের প্রশ্ন। তারেক রহমানের নেতৃত্বেই আমরা সেই লড়াইয়ে নামছি।”

তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই এখন বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রীয় লক্ষ্য।

সর্বশেষ সংবাদ

ময়মনসিংহ ও সিলেটে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে

অনলাইন ডেস্ক দেশের দুই অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্ভাব্য এই দুর্যোগে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০...

ডিএমপিতে পাঁচ পরিদর্শক বদলি

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পাঁচজন পরিদর্শককে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. আমীর খসরুর স্বাক্ষরিত এক আদেশে...

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা দিচ্ছে চীন—মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

অনলাইন ডেস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তেহরানকে নতুন করে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—এমন তথ্য দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মার্কিন...

হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১৬৯

অনলাইন ডেস্ক দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫...

কাতারে ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যদিও...

জনপ্রিয় সংবাদ