অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ – মহাকাশকে দীর্ঘদিন ধরে স্থির ও নীরব মনে করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক এক জ্যোতির্বিজ্ঞানী আবিষ্কার এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে এক সাদা নক্ষত্র বা হোয়াইট ডোয়ার্ফ শনাক্ত হয়েছে, যা চলার পথে একটি তীব্র ও রঙিন শকওয়েভ তৈরি করছে।
সাদা নক্ষত্র ও তার বাইনারি সঙ্গী
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই সাদা নক্ষত্র একটি বাইনারি সিস্টেমের অংশ, অর্থাৎ এটি আরেকটি ছোট নক্ষত্রের সঙ্গে একে অপরের মাধ্যাকর্ষণ দ্বারা আবদ্ধ। সাদা নক্ষত্রটি তার সঙ্গী নক্ষত্র থেকে গ্যাস টেনে নিচ্ছে। এটি পৃথিবীর কাছাকাছি ৭৩০ আলোকবর্ষ দূরে, অরিগা নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থান করছে।
শকওয়েভের অদ্ভুত দৃশ্য
ইউরোপীয় সাউদার্ন অবজারভেটরির চিলিভিত্তিক ‘ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ’ দিয়ে শকওয়েভের ছবি ধরা পড়েছে। ছবিতে দেখা যায়, সাদা নক্ষত্র থেকে বের হওয়া পদার্থ আশপাশের আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাসের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উজ্জ্বল রঙে জ্বলে উঠছে। এই ধাক্কার ঢেউকে বো শক বলা হয় – যা নৌকার মতো ঢেউয়ের মতো দেখতে।
রঙের রহস্য
গবেষকরা জানিয়েছেন, শকওয়েভের বিভিন্ন রঙ নির্দিষ্ট গ্যাসের কারণে। লাল রঙ এসেছে হাইড্রোজেন থেকে, সবুজ রঙ নাইট্রোজেন থেকে এবং নীল রঙ অক্সিজেন থেকে। উত্তপ্ত হলে এই গ্যাসগুলো নির্দিষ্ট রঙে জ্বলে ওঠে, যা শকওয়েভকে এত উজ্জ্বল ও মনোরম করেছে।
রহস্যময় গ্যাসের উৎস
এর আগেও কিছু সাদা নক্ষত্রের চারপাশে শকওয়েভ দেখা গেছে। তবে সেগুলোর চারপাশে গ্যাসের চক্র বা ডিস্ক ছিল। এই নক্ষত্রের ক্ষেত্রে সেই ডিস্ক নেই। তাই কীভাবে এত বিশাল শকওয়েভ তৈরি হচ্ছে, তা এখনো জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্য।
দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়া
গবেষকরা শকওয়েভের আকার বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, এটি হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়। প্রক্রিয়াটি অন্তত এক হাজার বছর ধরে চলতে পারে। তাই এটি কেবল একবারের বিস্ফোরণ নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং জটিল মহাকাশীয় ঘটনা।
বিজ্ঞানীদের আগ্রহ
এই আবিষ্কার মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে, এমন শকওয়েভের উৎস, প্রক্রিয়া ও কার্যকলাপের ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই রহস্যের কুঞ্জি উন্মোচিত হবে।
মহাকাশ স্থির বা নীরব নয়। মিল্কিওয়ের এই সাদা নক্ষত্র প্রমাণ করছে, মহাবিশ্বে এখনও অনেক অজানা ঘটনা ঘটছে। শকওয়েভের রহস্য শুধু জ্যোতির্বিজ্ঞানী নয়, সাধারণ মানুষকেও চমকিত করছে এবং মহাকাশের সৌন্দর্য ও জটিলতার নতুন অধ্যায় উন্মোচন করছে।


