
নিজস্ব প্রতিবেদক : মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে চুক্তিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পাঁচটি রিক্রুটিং এজেন্সির ২৬ জন মালিক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এসব মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন।
দুদক জানায়, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর বিষয়টি কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত এজেন্সিগুলো বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোট ৩১৪ কোটি ৩৪ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা সংগ্রহ করে। তবে এ অর্থ ছিল অবৈধভাবে নেওয়া এবং কোনোটিই চুক্তিভুক্ত কর্মসংস্থান কার্যক্রমের আওতায় পড়েনি। বরং প্রতারণার মাধ্যমে এজেন্সিগুলো টাকা হাতিয়ে নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম মামলার আসামিরা হলেন জিএমজি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোছা. মনিহার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মাওলা, পরিচালক মোজাম্মেল হোসেন, তাসফিয়া মাউন ও ইসলাইল হোসাইন। ওই মামলায় বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বায়রার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকালে সিন্ডিকেট করে বিএমইটি ও বায়রার রেজিস্ট্রেশনের শর্ত ভঙ্গ করে মালয়েশিয়ায় পাঠাতে সরকারের নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করেছেন। অবৈধ পারিতোষিক গ্রহণ করে ২ হাজার ৮৩০ জনকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নামে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতি কর্মীর কাছ থেকে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত ৪৭ কোটি ৪০ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
দ্বিতীয় মামলায় ৩ হাজার ২৩৯ জন মালয়েশিয়ায় পাঠানো কর্মীর কাছ থেকে ৫৪ কোটি ২৫ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় দি জিএমজি এসোশিয়েট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়ালিদ হোসাইন হারুন, পরিচালক মোজাম্মেল হোসেন, আবদুর রহিম, নুরুল আমিন, গোলাম মাওলা, ইসলাইল হোসাইন ও তাসফিয়া মাউনকে আসামি করা হয়েছে।
তৃতীয় মামলায় আসামি হলেন কিউকে কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবিন, এমডি মোহাম্মদ মুনছুর ভূঁইয়া, পরিচালক আবদুল কুদ্দুস ভূঁইয়া, রাশেদা আকতার, নিলূফা কুদ্দুস, আওরঙ্গজেব ও শাহিনা খান। তাঁদের বিরুদ্ধে ৫ হাজার ২৭৫ জন শ্রমিকের কাছ থেকে ৭১ কোটি ৬০ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
চতুর্থ মামলায় এম ই এফ গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন, এমডি মকবুল হোসেন ও পরিচালক হাইদার আলীকে আসামি করা হয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় ৪ হাজার ৫৬৬ জনের কাছ থেকে ৭৬ কোটি ৪৮ লাখ ৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
পঞ্চম মামলায় ধামাসি করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওসমান গনি, এমডি নোমান চৌধুরী ও পরিচালক এনাম আহমেদ চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে। ৩ হাজার ৮৫৭ জনকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তাঁরা। এর আগে এ ঘটনায় ১২টি মামলা হয়েছিল বলে জানিয়েছে দুদক।
দুদক কর্মকর্তা আক্তার হোসেন বলেন, “জনশক্তি রপ্তানির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের দুর্নীতি ও প্রতারণা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তদন্তের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মামলাগুলো এখন তদন্তাধীন রয়েছে। দুদক আশা করছে, তদন্তের মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মীদের সঙ্গে সংঘটিত এই প্রতারণার পুরো চিত্র উঠে আসবে এবং সংশ্লিষ্টরা আইনের মুখোমুখি হবে।


