অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি – বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বে ডার্ক ম্যাটারের বিস্তার চিত্রায়িত করে একটি নতুন এবং সবচেয়ে বিস্তারিত মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। এই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের (JWST) পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে, যা আকাশের এমন একটি অংশে কাজ করেছে, যার আয়তন পূর্ণ চাঁদের তিন গুণের সমান।
বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় ৮৫ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার। বাকি ১৫ শতাংশই সাধারণ পদার্থ, যা দিয়ে তারা, গ্রহ, মানুষসহ চোখে দেখা সবকিছু গঠিত। ডার্ক ম্যাটার আলো ছড়ায় না বা প্রতিফলিত করে না, তাই এটি সরাসরি দেখা যায় না। তবে এর অস্তিত্ব বোঝা যায় এর মাধ্যাকর্ষণ প্রভাব থেকে। উদাহরণস্বরূপ, গ্যালাক্সির ঘূর্ণন, গ্যালাক্সির দলগত বিন্যাস বা দূরের আলোর পথ বড় কোনো কাঠামোর কাছে বাঁক নেওয়া – এসব থেকেই ডার্ক ম্যাটারের অবস্থান অনুমান করা যায়।
মানচিত্র তৈরির জন্য জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে প্রায় আড়াই লাখ দূরবর্তী গ্যালাক্সির আকারে সূক্ষ্ম বিকৃতি ধরা পড়ে। এই বিকৃতির বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা আলোর পথে ডার্ক ম্যাটারের ঘনত্ব ও অবস্থান নির্ণয় করেছেন। পূর্বে হাবল স্পেস টেলিস্কোপও এমন মানচিত্র তৈরি করেছিল, তবে নতুন মানচিত্রটি দ্বিগুণ স্পষ্ট, বৃহত্তর এলাকা জুড়ে এবং প্রায় ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন বছর আগে পর্যন্ত মহাবিশ্বকে দেখার সুযোগ দিয়েছে।
নতুন মানচিত্রে মহাবিশ্বের ‘কসমিক ওয়েব’ বা মহাজাগতিক জাল আরও পরিষ্কারভাবে ধরা পড়েছে। এতে গ্যালাক্সির বৃহৎ দল, ডার্ক ম্যাটার দিয়ে গঠিত দীর্ঘ ফিলামেন্ট বা সুতোসদৃশ কাঠামো এবং তুলনামূলক কম ঘনত্বের অঞ্চলগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
গবেষকেরা জানান, এই ফলাফল বর্তমান স্বীকৃত মহাবিশ্ব মডেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মডেল অনুযায়ী, বিগ ব্যাংয়ের পর মহাবিশ্বের গঠন ও বিকাশে ডার্ক ম্যাটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিজ্ঞানীরা আশাবাদী, নতুন মানচিত্র ভবিষ্যতে গ্যালাক্সির জন্ম, বিকাশ এবং মহাবিশ্বের গঠন বোঝার গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


