অনলাইন ডেস্ক

দেশে ভেজাল ও নিম্নমানের কসমেটিকস, হোমকেয়ার ও স্কিনকেয়ার পণ্যের আগ্রাসন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যা দিন দিন আরও বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। তা না হলে জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের (ডিএনসিআরপি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের আগ্রাসন: ভোক্তার সুরক্ষায় প্রয়োজন কঠোর নীতিমালা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
ডিএনসিআরপি ও অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এএসবিএমইবি)-এর যৌথ উদ্যোগে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম।
সেমিনারে ভোক্তা অধিকারের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের আগ্রাসন রোধে ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্ম মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, হালাল পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের কসমেটিকস ও বিউটি পণ্যের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বাজারে প্রবেশ করতে হলে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ড. আইনুল ইসলাম বলেন, কসমেটিকস খাত দেশে দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষিত। অথচ কসমেটিকস শুধু সাজসজ্জার বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, সামাজিক কল্যাণ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভেজাল ও নিম্নমানের আমদানিকৃত পণ্যের বিস্তার দেশীয় শিল্পের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে সস্তা ভেজাল পণ্য ভালো মানের পণ্যকে বিতাড়িত করে—যা অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ইসহাকুল হোসেন সুইট বলেন, কসমেটিকস শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে আরোপিত ১২৭.৭২ শতাংশ শুল্ক দেশীয় শিল্পের বিকাশে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এই উচ্চ শুল্ক উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে স্থানীয় শিল্প। টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে কাঁচামালের ওপর শুল্ক নামমাত্র পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) সহসভাপতি এম এস সিদ্দিকী ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ভোক্তার সচেতনতা বাড়লেই ভেজাল পণ্যের বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সাহিদ হোসেন বলেন, ভেজাল পণ্য রোধ ও দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো জরুরি। একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদকদের স্বার্থে আমদানিকৃত কসমেটিকস ও বিউটি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
এসএমই ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আলী জামান বলেন, লাগেজ পার্টি বা অনানুষ্ঠানিক পথে পণ্য আমদানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। এসব পথে নিম্নমানের ও অনিয়ন্ত্রিত পণ্য প্রবেশ করে দেশীয় শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শারমিনা হক বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের কসমেটিকস ব্যবহারের ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে অনেকেই চরম হতাশায় ভুগছেন, এমনকি কেউ কেউ আত্মহত্যার পথও বেছে নিচ্ছেন। এই ঝুঁকি এড়াতে ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি ও নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি।


