
বিডি রিপোর্টস ডিজিটাল ডেস্ক : ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের পাকিস্তানের সঙ্গে সম্প্রতি ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। নয়াদিল্লি আশঙ্কা করছে, এই নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সিলিগুড়ি শহরকেন্দ্রিক এই সরু ভূখণ্ডটির প্রস্থ সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে মাত্র ২০–২২ কিলোমিটার। ভৌগোলিকভাবে এটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে মূল ভারতের সঙ্গে যুক্ত করে। করিডরটির পশ্চিমে নেপাল ও পূর্বে বাংলাদেশ, আর উত্তরে ভুটান অবস্থিত। অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত এখন বিহারের জোগবানি হয়ে নেপালের বিরাটনগর পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নিউ মল জংশন পর্যন্ত নতুন রেললাইন স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে।
ভারতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মিরজার ঢাকা সফরের পর। তিনি বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক চীন সফরও নয়াদিল্লিতে অস্বস্তি তৈরি করেছে। গত ২৬ থেকে ২৯ মার্চের সফরে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ভারতের পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্য, যেগুলোকে “সেভেন সিস্টার্স” বলা হয়, সেগুলো স্থলবেষ্টিত অঞ্চল—সমুদ্রপথে তাদের কোনো সরাসরি প্রবেশাধিকার নেই। আমরা এই অঞ্চলের একমাত্র “সমুদ্র অভিভাবক”।’
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুফি সাগর সামস্ বলেছেন, বাংলাদেশের এই অবস্থান শুধুমাত্র দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের প্রতিক্রিয়া হিসেবে সীমান্তবর্তী কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো ভারতকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে এবং ঢাকা সরকারের উপরও চাপ তৈরি করতে সক্ষম হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ভারত সীমান্তে সেনা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করেছে, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপগুলো কেবল সামরিক নিরাপত্তার জন্য নয়, কূটনৈতিকভাবেও ঢাকার নীতি প্রভাবিত করতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মানচিত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ করছে। ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা আগামী দিনগুলোতে আঞ্চলিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


