বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

ভারতের ‘শান্তি’ আইন পাস: বেসরকারি পরমাণু বিদ্যুতের পথ উন্মুক্ত

পাঠক প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক

ভারতের সংসদে পাস হওয়া ‘সাসটেনেবল হারনেসিং অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব নিউক্লিয়ার এনার্জি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া (SHANTI) বিল’ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুমোদনের পর আইনে পরিণত হয়েছে। এখন এটি ‘শান্তি আইন’ নামে কার্যকর।

প্রধান লক্ষ্য:
আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো ২০৪৭ সালের স্বাধীনতার শতবর্ষে ভারতের পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৮.৮ গিগাওয়াট থেকে ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করা, যা দেশকে পেট্রোল-ডিজেল আমদানি কমানোর দিকে নিয়ে যাবে।

আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য:

  1. বেসরকারি খাতকে খোলা: আইনটি বেসরকারি সংস্থা ও যৌথ উদ্যোগকে সরকারের লাইসেন্সের অধীনে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, মালিকানা, পরিচালনা ও বন্ধ করার ক্ষমতা প্রদান করেছে।

  2. পরমাণু চুল্লি সরবরাহকারীকে দায়মুক্তি: বিদেশি চুল্লি সরবরাহকারীদের দুর্ঘটনার দায় থেকে আংশিক মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

  3. ক্ষতিপূরণের সীমাবদ্ধতা: দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলোর সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের বিশেষ তহবিল থাকায় বেসরকারি সংস্থার ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত না হলে কেন্দ্রই দায়ভার নেবে।

  4. পুরনো আইন বাতিল: ১৯৬২ সালের পরমাণু শক্তি আইন ও ২০১০ সালের পরমাণু দুর্ঘটনা দায়বদ্ধতা আইন বাতিল করা হয়েছে।

আইনের প্রেক্ষাপট:

  • ইউপিএ সরকারের আমলে ভারত-আমেরিকা পরমাণু চুক্তি ও পরমাণু দায়বদ্ধতা আইন ছিল, যেখানে চুল্লি সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর ওপর পূর্ণ দায় আরোপ করা হতো।

  • মোদি সরকার দাবি করেছে, সেই আইন বেসরকারি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছিল। বেসরকারি সংস্থা বিনিয়োগে আগ্রহী নয় কারণ দায়ভার অসীম ছিল।

বিরোধী সমালোচনা:

  • কংগ্রেসসহ বিরোধীরা বলছে, আইনটি বেসরকারি সংস্থার মুনাফা ও সুবিধার জন্য এবং বিপজ্জনক স্থানে কাজের দায় সীমিত করছে।

  • শিল্পপতি গৌতম আদানির আদানি গ্রুপ নভেম্বরে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে আইন পাস হওয়ার আগে থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

  • বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে, আইনটি কি কেবল বড় শিল্পপতির সুবিধার্থে তাড়াহুড়োর মধ্যে আনা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:

  • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইনকে স্বাগত জানিয়েছে। এটিকে ‘শক্তিশালী শক্তি নিরাপত্তা অংশীদারি’ এবং ‘শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা’-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছে।

মোদি সরকারের যুক্তি:

  • বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে পরমাণু খাতকে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।

  • আমেরিকা থেকে চুল্লি আমদানির রাস্তা খোলা হবে এবং ভারতীয় পরমাণু শিল্পকে আধুনিকায়ন করা যাবে।

উপসংহার:
‘শান্তি আইন’ ভারতের পরমাণু শক্তি খাতের বেসরকারিকরণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করেছে। তবে আইনটি নিয়ে দেশের ভেতরে নিরাপত্তা, দায়ভার ও স্বচ্ছতা নিয়ে তর্ক অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আনন্দবাজার

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ