অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা নীতির ঘোষণা দিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় এখন থেকে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি (একবার প্রবেশযোগ্য) নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়া হবে, যার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।
এর আগে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। পরে গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশিদের জন্য এই কর্মসূচি কার্যকর হয়েছে ২১ জানুয়ারি থেকে।
দূতাবাস জানায়, ভিসা বন্ড প্রোগ্রামের আওতায় আবেদনকারীদের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত প্রযোজ্য হবে। ভিসার জন্য অনুমোদন পাওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে ভিসা বন্ডের অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা pay.gov–এর সরাসরি লিংকসহ পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন।
এই কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হবে। নির্ধারিত কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের কাজ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এলে জমা দেওয়া বন্ডের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো—
-
বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS)
-
জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK)
-
ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)
এই নির্ধারিত বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে ভিসা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করবে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে অবস্থান করেন—যাদের ‘ওভারস্টে’ বলা হয়—তাদের নিরুৎসাহিত করা। যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ওভারস্টের হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাড়াও ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা। দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
ভিসা বন্ড একটি ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে ভিসার শর্ত, বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ করা নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়।
উল্লেখ্য, অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যও ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল, তবে পরে তা বাতিল করা হয়।


