অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী শপথ গ্রহণ করেছেন। তিনি রবিবার (২৭ ডিসেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে শপথ নেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী, বিচারপতিরা, তিন বাহিনীর প্রধানরা, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও অন্যান্য অতিথিরা। অনুষ্ঠানের পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ।
এর আগে, ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। এই নিয়োগ শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
প্রধান বিচারপতির অভিভাষণ ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সুপ্রিম কোর্ট অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা অংশগ্রহণ করবেন। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এই উপলক্ষে একটি স্মারক জারি করেছে।
কর্মজীবন ও শিক্ষা
জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৬১ সালের ১৮ মে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা প্রয়াত এএফএম আবদুর রহমান চৌধুরীও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ছিলেন।
-
শিক্ষাজীবন:
-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) এবং এলএলএম ডিগ্রি অর্জন।
-
যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ।
-
-
পেশাগত জীবন:
-
১৯৮৫ সালে জেলা জজ আদালতে, ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
-
২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হন।
-
২০০৫ সালে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
-
২০২৪ সালের ১২ আগস্ট আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।
-
নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতির শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের অবসর কার্যকর হয়, যিনি ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব থেকে অবসর নেন।
নতুন প্রধান বিচারপতির অভিভাষণ দেশের বিচারব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট হিসেবে ধরা হচ্ছে, যেখানে তিনি সুপ্রিম কোর্টের নীতি, দিকনির্দেশনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।


