অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আবারও বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচক অনুযায়ী শনিবার সকাল ৮টায় ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর দাঁড়ায় ২৪৭, যা বায়ুমানের দিক থেকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ (Very Unhealthy) শ্রেণিভুক্ত।
পিএম ২.৫ মাত্রা ডব্লিউএইচও মান ছাড়ালো ৩৫ গুণ
ঢাকার বায়ুদূষণের মূল উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম ২.৫। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কণাগুলো ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগ, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বাড়িয়ে দেয় এবং শিশু–বয়স্কদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
আজ সকালে ঢাকার বাতাসে পিএম ২.৫–এর মাত্রা ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত নিরাপদ মানের প্রায় ৩৫ গুণ বেশি, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
দূষণের উৎস: নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্প কারখানা
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীত মৌসুমে ঢাকার বায়ুদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
-
নিয়ন্ত্রণহীন নির্মাণকাজ
-
পুরোনো ও ধোঁয়াযুক্ত যানবাহনের নির্গমন
-
ইটভাটা ও শিল্প কারখানার ধোঁয়া
-
বাতাসের গতি কমে যাওয়া
-
খোলা জায়গায় আবর্জনা ও বর্জ্য পোড়ানো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকদের মতে, পিএম ২.৫ মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া রাজধানীর দশকব্যাপী দূষণ সংকটকেই আরও প্রকট করে তুলছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ ধরনের দূষিত বায়ুতে—
-
হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের জটিলতা বাড়ে
-
শিশুদের নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে
-
হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়
-
দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার ঝুঁকি বাড়তে পারে
তারা গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্কদের বাইরে চলাফেরার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
করনীয়: বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ
বিশেষজ্ঞরা বায়ুদূষণ কমাতে কিছু জরুরি পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন—
-
নির্মাণস্থলে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাধ্যতামূলক ঢেকে রাখা ও পানি ছিটানোর ব্যবস্থা
-
পুরোনো যানবাহন পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার
-
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ইটভাটা ও শিল্পযন্ত্র
-
নগর জুড়ে পর্যাপ্ত সবুজায়ন
-
আবর্জনা পুড়ানো বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত সতর্কতা
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
-
বাইরে বের হলে মানসম্মত এন-৯৫ বা সমমানের মাস্ক ব্যবহার
-
ধুলোবালির এলাকায় দীর্ঘ সময় অবস্থান না করা
-
বাসায় এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার (সম্ভব হলে)
-
শিশু ও বয়স্কদের বাইরে কার্যক্রম সীমিত রাখা


