
অনলাইন ডেস্ক : সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক বায়ুমান নির্ধারণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকা আবারও দূষণের শীর্ষ সমস্যায় রয়েছে। রাজধানীর বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র স্থানীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি নয় — এটি গ্লোবাল প্রেক্ষাপটে নাগরিক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় সতর্কবার্তা।
প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, ঢাকার AQI স্কোর ১৮১, যা আইকিউএয়ারের মানদণ্ডে “অস্বাস্থ্যকর” (Unhealthy) হিসেবে গণ্য করা হয়।
একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা ৫ম অবস্থানে রয়েছে, যা প্রমাণ করে কলকাতা, লাহোর বা অন্যান্য মহানগরের সঙ্গে তুলনায় ধীরগতিতে হলেও দূষণের মাত্রা কতটা গভীর।
তবে, আইকিউএয়ারের লাইভ র্যাঙ্কিং পেজ অনুযায়ী সময়ভেদে অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে।
অতিরিক্তভাবে, আইকিউএয়ারের নিজস্ব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০২৪ সালের গড় PM2.5 ঘনত্ব ছিল প্রায় ৭৮ মাইক্রোগ্রাম/মি³, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক নির্দেশিকার তুলনায় বহুগুণ বেশি।
রিপোর্টে দেখা যায়, ভারতের রাজধানী দিল্লি সবচেয়ে দূষিত শহরের শীর্ষে রয়েছে। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির স্কোর ৫৫৯ রয়েছে, যদিও আইকিউএয়ারের লাইভ বা রিপোর্ট করা স্কোর সময় ও উৎস অনুযায়ী পরিবর্তন হয়ে থাকে।
এই তুলনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক কারণ এটি দেখায় যে দক্ষিণ এশিয়ার মেট্রো শহরগুলোর মধ্যে দূষণ শুধু প্রায়োগিক সমস্যা না, বরং একটি বড় আঞ্চলিক স্বাস্থ্যে সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“অস্বাস্থ্যকর” স্তরের আইকিউএয়ারের (151-200) ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষও সম্ভাব্য ক্ষতির মুখে পড়তে পারে: শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের সমস্যা, হৃদরোগের ঝুঁকি ইত্যাদি।
বিশেষত সংবেদনশীল গোষ্ঠী — শিশু, প্রবীণ, এবং আগে থেকেই শ্বাসনালার রোগসহ যারা — তাদের জন্য বাড়ির ভেতরেই সীমিত গতিবিধি এবং প্রয়োজনীয় সাবধানতা অত্যন্ত জরুরি।
প্রাদেশিক ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের উচিত সীমাহীনভাবে দূষণ উৎসগুলো চিহ্নিত করা, যেমন যানবাহন, ইটভাটাসহ শিল্প উৎস, এবং নিয়মিত ও পরিকল্পিত নীতি গ্রহণ করা।
কারণ ও উৎস
ঢাকার বায়ু দূষণের পিছনে বেশ কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে:
যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও বায়ু কণিকা। নির্মাণ কার্যকলাপ ও সড়ক ধুলো। শহরের পার্শ্ববর্তী ইটভাটাসহ শিল্পভিত্তিক উৎস। আবহাওয়ার শীতকালীন অবস্থা, যখন বায়ু স্থির থাকে ও দূষণ বেশি জমে।
সরাসরি করণীয়: স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ বিভাগকে দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা গঠন করতে হবে — নিরীক্ষণ স্টেশন বাড়ানো, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ধুলাবিহীন নির্মাণ প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা।
দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ: পরিবেশ আইন আরও কঠোর করা, গ্রিন জোন বাড়ানো এবং জনগণকে সচেতন করা দরকার। স্কুল, হাসপাতালসহ স্কুল এলাকার আশপাশে বিশুদ্ধ বায়ু সম্প্রসারণ করা এক গুরুত্বপূর্ণ দিক।
জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনা: জনসাধারণের জন্য স্বাস্থ্য সতর্কতা সিস্টেম গড়ে তোলা এবং দূষিত দিনের জন্য জনসচেতনতা প্রচারণা চালানো যেতে পারে — মাস্ক ব্যবহারের গাইডলাইন, দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব, এবং বাসিন্দাদের জন্য স্বাস্থ্যপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তোলা।
ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা যে শুধু ‘উপেক্ষাযোগ্য’ নয়, তা আইকিউএয়ারের স্কোর ও তুলনামূলক মানচিত্র স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে। ১৮১ স্কোর — এটি নিম্ন বা মাঝারি দূষণের স্তর থেকে অনেক উপরে, এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ নীতিমালা, টেকসই প্রকল্প ও জনগণ-ভিত্তিক উদ্যোগকে এখনই গুরুত্ব দিতে হবে। যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে শুধু স্থানীয় স্বাস্থ্যের জন্য নয়, দেশের সমগ্র পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।


