রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

টেকটোনিক তিন ফল্টের কারণে উচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

পাঠক প্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অত্যন্ত সক্রিয় তিনটি টেকটোনিক প্লেট—ভারত, মিয়ানমার ও ইউরেশীয় প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশি–বিদেশি ভূতাত্ত্বিক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা। শনিবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত ‘আর্থকুয়েক অ্যাওয়ারনেস, সেফটি প্রটোকল অ্যান্ড ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এই সতর্কবার্তা দেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড।

তিন সক্রিয় ফল্টলাইনে বাংলাদেশ

বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশকে ঘিরে থাকা তিনটি সক্রিয় ফল্টলাইন যেকোনো সময় শক্তিশালী ভূমিকম্পের জন্ম দিতে পারে:

১. সিলেটের ডাউকি ফল্ট

২. চট্টগ্রাম–টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত চিটাগং-আরাকান ফল্ট

৩. মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট

এই তিনটি ভূকম্পন–সক্রিয় ফল্টলাইনের সম্মিলিত প্রভাব বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক দশকে এই অঞ্চলগুলোতে টেকটোনিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে; যা বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

দ্রুত নগরায়ণ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক কারণে ঝুঁকি থাকলেও মানবসৃষ্ট ত্রুটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

  • অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ,

  • ঘনবসতি,

  • সংকীর্ণ সড়ক,

  • বিল্ডিং কোড না মানা,

  • দুর্বল অবকাঠামো,

এসব কারণে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতে ভূমিকম্প হলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, যথাযথ পরিকল্পনা ও ভবন নির্মাণে আন্তর্জাতিক মান বজায় না রাখলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর উদ্ধার তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে পুরান ঢাকা, চট্টগ্রাম শহর এবং সিলেট মহানগর এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সতর্কতা ও প্রস্তুতির ওপর জোর

সেমিনারে বক্তারা ভূমিকম্প মোকাবিলায় নিম্নলিখিত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন—

  • জাতীয় পর্যায়ে আধুনিক ভূমিকম্প মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা

  • বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন

  • জরুরি উদ্ধার সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে ভূমিকম্প–সচেতনতা প্রশিক্ষণ

  • নাগরিক পর্যায়ে ইমার্জেন্সি কিট প্রস্তুত রাখা

আয়োজক জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টেকসই নগর উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য তাদের প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবেই সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু প্রস্তুতি ও সচেতনতার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এজন্য সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা ও প্রস্তুতি জরুরি বলে তাঁরা মত দেন।

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ