অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে দেশে অননুমোদিত মজুত প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি তেল ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ সকাল থেকে দেশের ৯টি জেলার মোট ১৯টি জ্বালানি ডিপোতে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। এর মধ্যে ঢাকা জেলায় ১টি, কুড়িগ্রামে ২টি, রংপুরে ৩টি, রাজশাহীতে ৩টি, সিলেটে ২টি, মৌলভীবাজারে ৩টি, কুমিল্লায় ৩টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১টি এবং সুনামগঞ্জে ১টি ডিপো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ মোতায়েন কার্যক্রম একটি সুপরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিট সদর দপ্তর থেকে দূরবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে নিরাপদ স্থানে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ক্যাম্পে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে সদস্যরা নিয়মিত তদারকি, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করছেন।
মোতায়েনকৃত সদস্যরা ডিপোগুলোতে অবৈধ জ্বালানি মজুত ও বিক্রয় প্রতিরোধ, নাশকতা মোকাবিলা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ডিপো এলাকাগুলোতে বিজিবির দৃশ্যমান উপস্থিতি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে, সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, নৌ টহল বৃদ্ধি, চেকপোস্ট স্থাপন এবং তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবহৃত যানবাহনেও নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
সরকার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব পদক্ষেপের ফলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে এবং অবৈধ মজুত ও পাচার কার্যক্রম কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।


