সোমবার, মে ১১, ২০২৬

জুলাই সনদ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতা: নির্বাচন অনিশ্চিত হওয়ার শঙ্কা

পাঠক প্রিয়

স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে সংযোজিত “স্বয়ংক্রীয় সংবিধান সংযুক্তি” ধারা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঐক্যমত্য কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, পার্লামেন্ট যদি ২৭০ দিনের মধ্যে সনদটি পাস না করে, তাহলে এটি স্বয়ংক্রীয়ভাবে সংবিধানের অংশ হয়ে যাবে—এমন ব্যবস্থাকে বিএনপি ও বিরোধী দলগুলো উদ্ভট ও অগণতান্ত্রিক বলে আখ্যা দিয়েছে। ফলে যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজন নিয়েও জনমনে শঙ্কা বাড়ছে।

ঐক্যমত্য কমিশন প্রস্তাব করেছে, জুলাই সনদটি সংসদে পাস না হলেও ২৭০ দিন পর এটি স্বয়ংক্রীয়ভাবে সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে। কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধারা যুক্ত করা হয়েছে রাজনৈতিক জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এমন একটি বিধান সংসদের আইন প্রণয়ন ক্ষমতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানোর সমতুল্য।

বিএনপি এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে। দলটির নেতারা বলছেন, জনগণের প্রতিনিধি দ্বারা অনুমোদন ছাড়াই কোনো জাতীয় সনদ সংবিধানে সংযুক্ত হওয়া সংবিধানবিরোধী অবৈধ

বিএনপির মহাসচিব এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে জনগণকে দূরে রাখার এক অদ্ভুত কৌশল। বিএনপি এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না। যদি সরকার বা কমিশন জোর করে এই ধারা কার্যকর করে, তবে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সুফি সাগর সামস্ বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী পক্ষ নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি সম্পর্কে বিশেষভাবে জ্ঞাত আছে। নির্বাচন বানচাল করার জন্যই ঐক্যমত কমিশন এ ধরনের উদ্ভট প্রস্তাব জুলাই সনদে যুক্ত করেছে।

জনমনে একটি অংশের ধারণা, জুলাই সনদ ঘিরে এই বিতর্ক জামায়াতের পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। নির্বাচনকে বিলম্বিত বা বিতর্কিত করার মাধ্যমে জামায়াত ও তাদের সহযোগীরা পুনরায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। যদিও জামায়াত নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, জুলাই সনদে আমাদের কোনো প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা নেই; এটি সরকার ও কমিশনের বিষয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ জনগণের মধ্যে নির্বাচনের সময়সূচি ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বিএনপি যদি সনদের এই ধারা মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে বিপাকে পড়বে এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি বিলম্বিত হতে পারে।

রাজধানীর এক নাগরিক বলেন, দলগুলোর পরস্পর বিরোধিতার কারণে আমরা আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছি। সবাই শুধু রাজনীতি করছে, কিন্তু নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ স্পষ্ট কথা বলছে না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, জুলাই সনদ সংক্রান্ত এই ধারা দেশকে নতুন সাংবিধানিক দ্বন্দ্বে ফেলতে পারে। সংবিধানের স্বয়ংক্রীয় সংশোধনের নজির বাংলাদেশে আগে কখনো ঘটেনি। ফলে সংসদ, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জুলাই সনদ নিয়ে সরকার, বিএনপি ও ঐক্যমত্য কমিশনের অবস্থান এখন স্পষ্টতই বিপরীতমুখী। বিরোধী দলগুলোর অনমনীয় অবস্থান ও কমিশনের বিতর্কিত ধারা—উভয়ই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। রাজনীতিতে এখন প্রধান প্রশ্ন একটাই— বিএনপি যদি জুলাই সনদ না মানে, তাহলে কীভাবে হবে আগামী নির্বাচন?

প্রতিবেদক : ইশতিয়াক মাহমুদ মানিক।

সর্বশেষ সংবাদ

ময়মনসিংহ ও সিলেটে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে

অনলাইন ডেস্ক দেশের দুই অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্ভাব্য এই দুর্যোগে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০...

ডিএমপিতে পাঁচ পরিদর্শক বদলি

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পাঁচজন পরিদর্শককে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. আমীর খসরুর স্বাক্ষরিত এক আদেশে...

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা দিচ্ছে চীন—মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

অনলাইন ডেস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তেহরানকে নতুন করে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—এমন তথ্য দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মার্কিন...

হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১৬৯

অনলাইন ডেস্ক দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫...

কাতারে ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যদিও...

জনপ্রিয় সংবাদ