বিজ্ঞান ডেস্ক

রাতে ঘুমানোর আগে অনেকেই ঠিক করেন—মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম বা টিকটকটা একটু দেখে নেবেন। কিন্তু ফোন হাতে নেওয়ার পর দেখা যায়, সেই ৫ মিনিটই যেন হঠাৎ করে ৩০ মিনিটে রূপ নেয়। স্ক্রল থামানো যায় না, সময় পেরিয়ে গেলে নিজের ওপরই রাগ হয়। ঘুমের ব্যাঘাত, মন খারাপ, পরের দিন ক্লান্তি—সব মিলিয়ে তৈরি হয় মানসিক শূন্যতা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ঘটনার পেছনে শুধু ব্যবহারকারীর ‘আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব’ দায়ী নয়; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপগুলোর নকশাতেই লুকিয়ে আছে সময় ধরে রাখার চতুর কৌশল।
অন্তহীন স্ক্রল আর নোটিফিকেশনের ফাঁদ
টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ এমনভাবে তৈরি যে ব্যবহারকারীরা যেন স্ক্রল করতে করতে ঠিক বুঝতেই না পারেন কত সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। ইনফিনিট স্ক্রল নামের এই নকশা ব্যবহারকারীকে এক ধরনের অবচেতন লুপে ফেলে রাখে। আপনি একটি কনটেন্ট শেষ করার আগেই সামনে চলে আসে আরেকটি আকর্ষণীয় ভিডিও বা পোস্ট।
এ ছাড়া অ্যালগরিদম সবসময় খুঁজে খুঁজে দেখায় ঠিক সেই ধরনের কনটেন্ট, যেগুলোতে আপনি বেশি সময় থামেন। ফলে সময় নষ্ট হলেও মনকে টেনে রাখে অজান্তে তৈরি হওয়া ‘আনন্দের অনুভূতি’।
মস্তিষ্কে ডোপামিন উত্তেজনা
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতি নতুন ভিডিও বা নোটিফিকেশন একধরনের ক্ষুদ্র ডোপামিন রিলিজ ঘটায়, যা মস্তিষ্কে পুরস্কারের অনুভূতি তৈরি করে। ফলে ব্যবহারকারীরা বারবার ফোনে হাত দেন, যদিও তাদের বাস্তব কোনো প্রয়োজন থাকে না।
এভাবেই রাতের ‘৫ মিনিট’ ধীরে ধীরে হয়ে যায় ‘৩০ মিনিট’ বা তারও বেশি।
ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের আগে বেশি সময় স্ক্রল করলে মস্তিষ্ক উত্তেজিত হয়ে ওঠে, ফলে ঘুম নামতে চায় না। পাশাপাশি ফোনের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোন কমিয়ে দেয়, যা ঘুমের স্বাভাবিক রিদম নষ্ট করে। পরের দিন ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়।
সমাধান কী?
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন দূরে রাখা উচিত। দরকার হলে অ্যাপ টাইমার, স্ক্রিন টাইম লিমিট বা নাইট মোড ব্যবহার করা যেতে পারে। সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো—ঘুমানোর আগে ফোন নয়, বরং বই বা হালকা সঙ্গীত শোনার অভ্যাস করা।
তাদের ভাষায়, “এটি শুধু সময় বাঁচাবে না, বরং মানসিক শক্তিও পুনরুদ্ধার করে।”


