
আল–জাজিরা : গাজার অবরুদ্ধ ভূখণ্ডে যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রতিনিয়তই নতুন নতুন ট্র্যাজেডি সৃষ্টি করছে। সেই দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হয়েছে মাত্র ১২ বছরের রাঘাদ আল-আসারের হৃদয়বিদারক গল্প। গত বছর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় তাদের বাড়িটি মুহূর্তেই পরিণত হয়েছিল ধ্বংসস্তূপে। সেই হামলায় রাঘাদের দুই বোন নিহত হন, আর পরিবারের বাকি সদস্যেরা কমবেশি আহত হন।
হামলার পরপরই রাঘাদকে মৃত মনে করা হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে যখন উদ্ধার করা হয়েছিল, তখন তাঁর দেহে কোনো নড়াচড়া ছিল না; রক্তাক্ত মুখ আর নিথর শরীর দেখে চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেছিলেন। নিহত দুই বোনের মরদেহের সঙ্গে রাঘাদকেও গাজা সিটির একটি মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।
কিন্তু সেখানেই ঘটে এক আশ্চর্য ঘটনা। মর্গের কর্মীরা মরদেহগুলো গোছানোর সময় হঠাৎই লক্ষ্য করেন, রাঘাদের আঙুল সামান্য কেঁপে উঠেছে। দ্রুত তাকে পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন, সে এখনো বেঁচে আছে—জীবনের ক্ষীণতম স্ফুলিঙ্গটুকু তখনো নিভে যায়নি।
অচেতন রাঘাদকে মৃত ভেবে মর্গে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে হিমঘরে তার দেহ প্রায় আট ঘণ্টা পড়ে ছিল।
অবস্থার গুরুতর সংকটের মধ্যেও চিকিৎসকেরা দ্রুত তাকে নিয়ে যান জরুরি বিভাগে। কয়েক দফা অস্ত্রোপচার ও নিবিড় পরিচর্যার পর ধীরে ধীরে রাঘাদ ফেরে জীবনের কাছে। পরিবার হারানো, আহত শরীর আর গভীর মানসিক আঘাত—সবকিছুর সঙ্গেই তাকে লড়াই করতে হয়েছে দীর্ঘদিন। তবু বেঁচে থাকা রাঘাদের জন্য আজ এক অলৌকিক বাস্তবতা।
বর্তমানে রাঘাদ শারীরিকভাবে অনেকটাই সেরে উঠেছে, যদিও যুদ্ধের ক্ষত তাকে প্রতিদিনই মনে করিয়ে দেয় হারিয়ে ফেলা দুই বোনকে। গাজার শিশুদের বাস্তবতা যে কতটা নির্মম, রাঘাদের গল্প তারই আরেকটি প্রতিচ্ছবি। যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও তাঁর বেঁচে ফিরে আসা গাজার মানুষের কাছে আশার আলো হয়ে আছে—জীবন যে কখনো কখনো মৃত্যু-অনন্তের হাত থেকেও ফিরে আনে, তারই প্রমাণ রাঘাদ আল-আসার।


