নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোট কেন্দ্রে পরিবেশবান্ধব ব্যানার, কর্মকর্তা নিয়োগে কড়াকড়ি ও একই নামের প্রার্থীদের পরিচয় নিশ্চিতের সিদ্ধান্ত।
আগামী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পরিবেশবান্ধব বিশেষ ব্যানার টাঙানোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, একই নামের প্রার্থীদের পরিচয় নির্ধারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে সংস্থাটি।
ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় রেখে ব্যানার তৈরিতে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। ব্যানার তৈরিতে ৮০ শতাংশ প্রাকৃতিক কটন ও ২০ শতাংশ ভিসকস-মিশ্রিত পরিবেশবান্ধব ফেব্রিক ব্যবহার করতে হবে। রিঅ্যাকটিভ ডিজিটাল প্রিন্টের এসব ব্যানারের দৈর্ঘ্য হবে ৩ ফুট এবং প্রস্থ ৫ ফুট। ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ প্রতিটি ব্যানারের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮৬ টাকা। ব্যানারের ওপর ও নিচে পিভিসি পাইপ এবং ঝোলানোর জন্য হুক সংযুক্ত রাখতে হবে।
প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগে নতুন কড়াকড়ি
ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। কোনো উপজেলায় কর্মকর্তাসংকট দেখা দিলে পাশের বা নিকটবর্তী উপজেলা থেকে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে একটি আসনের সব প্রিসাইডিং অফিসারকে ঢালাওভাবে অন্য আসনে নিয়োগ দেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট করেছে কমিশন।
নির্দেশনায় বলা হয়, সংশ্লিষ্ট উপজেলায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তা না পাওয়া গেলে তবেই কেবল আন্তঃউপজেলা নিয়োগ কার্যকর হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে প্যানেল চূড়ান্ত করতে হবে। এ বিষয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।
একই নামের একাধিক প্রার্থী হলে পরিচয় নিশ্চিতের নির্দেশ
একই নির্বাচনি এলাকায় একাধিক প্রার্থীর নাম হুবহু হলে ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর নামের সঙ্গে তাঁর বাবা, মা অথবা স্বামীর নাম যুক্ত করে ব্যালট পেপার ও প্রার্থী তালিকায় পার্থক্য করা হবে।
ইসি জানিয়েছে, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী প্রার্থীদের নাম বর্ণানুক্রমে তালিকাভুক্ত করা হলেও একই নামের একাধিক প্রার্থী থাকলে প্রয়োজনে প্রতীকের ক্রমানুসারেও নাম সাজানো যেতে পারে। এতে ব্যালট পেপার মুদ্রণ ও প্রার্থী শনাক্তকরণ সহজ হবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
নির্বাচনের সময় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চলবে ডিসির তত্ত্বাবধানে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে জনস্বার্থ বিবেচনায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সচল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। কর্মসূচি দুটি হলো ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (এমসিবিপি)।
নির্বাচন প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ রাখতে এসব কর্মসূচি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি মনে করে, তফসিল ঘোষণার পর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কা থাকে। তাই একদিকে নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখা এবং অন্যদিকে জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা সচল রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


