রবিবার, মে ১০, ২০২৬

গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে স্মরণে বেগম খালেদা জিয়া

পাঠক প্রিয়

বিশেষ প্রতিবেদক

দীর্ঘ সংগ্রামের শেষে যখন অবশেষে মানুষের হাতে ফিরে এলো ব্যালটের শক্তি, যখন ভোটকেন্দ্রগুলো আবার হয়ে উঠলো মানুষের আশা-স্বপ্নের মিলনমেলা—ঠিক সেই সময়টাতেই ইতিহাস যেন নিঃশব্দে খুঁজছিল এক মানুষকে।

সেই মানুষটি আর ছিলেন না।

তিনি ছিলেন বাংলাদেশ-এর রাজনীতির এক দীর্ঘ অধ্যায়ের নাম, এক সংগ্রামী সময়ের প্রতীক, লক্ষ মানুষের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু।

গণতন্ত্রের পুনরুত্থানের এই দিনটিতে তাই আনন্দের ভেতরেও মিশে আছে এক অদ্ভুত শূন্যতা।

যে দিনটি তার দেখার কথা ছিল

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় ফেরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, আন্দোলন, দমন-পীড়ন আর অপেক্ষার পর এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি দলের জয় নয়—অনেকের কাছে এটি ছিল একটি যুগের ফিরে আসা।

দলের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের মুখ হিসেবে উঠে আসেন তার সন্তান তারেক রহমান। রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলের এই মুহূর্ত—মায়ের চোখে দেখার কথা ছিল।

কিন্তু ইতিহাস অনেক সময় নিষ্ঠুর হয়।

তিনি চলে গেছেন তার আগেই।

এক নারীর ব্যক্তিগত জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় ইতিহাস

রাজনীতিতে তার যাত্রা ছিল না পরিকল্পিত। তিনি ছিলেন একজন গৃহিণী।

কিন্তু ইতিহাস তাকে ডেকে নেয় স্বামীর মৃত্যুর পর—
তিনি ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সহধর্মিণী।

এরপর ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন এক রাজনৈতিক প্রতীক।
একসময় তিনি শুধু একটি দলের নেত্রী ছিলেন না—তিনি হয়ে ওঠেন একটি রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতীক।

প্রতিকূল সময়ের প্রতিরোধের নাম

রাজনীতির ইতিহাসে এমন সময় এসেছে, যখন তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, যখন তাকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হয়েছে, যখন তাকে বন্দি রাখা হয়েছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে তাকে দীর্ঘ সময় বন্দিজীবন কাটাতে হয়—যা তার সমর্থকদের কাছে তাকে আরও প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত করে।

তবুও তিনি বারবার বলেছেন—
দেশ ছেড়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই।

দেশই তার ঠিকানা।

রাজনীতি নয়, ছিল এক আবেগ

দলের কর্মীরা তাকে ডাকতেন ‘দেশনেত্রী’।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি হয়ে ওঠেন আরও বড় কিছু—
অনেকের কাছে তিনি ছিলেন রাজনৈতিক অভিভাবক, সংগ্রামের সাহস, অপেক্ষার ধৈর্য।

তার জীবনের গল্প শুধু ক্ষমতা বা নির্বাচন নয়—
এটি ছিল ব্যক্তিগত ক্ষতি, রাজনৈতিক লড়াই, একাকিত্ব এবং দৃঢ়তার গল্প।

ইতিহাসে থেকে যাওয়ার এক নীরবতা

গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণের এই সময়টি হয়তো তার দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতারই ফল—এমনটা মনে করেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

তবুও বাস্তবতা হলো—
দলের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন, নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়, নতুন নেতৃত্ব—
এই সবকিছুর ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি চলে গেলেন।

এ কারণেই হয়তো ইতিহাসের এই আনন্দময় অধ্যায়ের পাশে চিরকাল লেখা থাকবে—
একটি অনুপস্থিত নাম।

সময়ের স্রোত রাজনীতি বদলায়, সরকার বদলায়, নেতৃত্ব বদলায়।
কিন্তু কিছু নাম ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।

বেগম খালেদা জিয়া—
তিনি হয়তো আর নেই,
কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি থেকে যাবেন এক সংগ্রামের প্রতীক হয়ে।

 

 

সর্বশেষ সংবাদ

ময়মনসিংহ ও সিলেটে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে

অনলাইন ডেস্ক দেশের দুই অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্ভাব্য এই দুর্যোগে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০...

ডিএমপিতে পাঁচ পরিদর্শক বদলি

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পাঁচজন পরিদর্শককে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. আমীর খসরুর স্বাক্ষরিত এক আদেশে...

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা দিচ্ছে চীন—মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

অনলাইন ডেস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তেহরানকে নতুন করে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—এমন তথ্য দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মার্কিন...

হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১৬৯

অনলাইন ডেস্ক দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫...

কাতারে ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যদিও...

জনপ্রিয় সংবাদ