মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

ক্তরাষ্ট্রের আমাদের জ্বালানি কেনার অধিকার থাকলে ভারতের থাকবে না কেন?

পাঠক প্রিয়

ডিজিটাল ডেস্ক

রুশ জ্বালানি কেনায় ওয়াশিংটনের নীতি নিয়ে প্রশ্ন

রাশিয়ার জ্বালানি তেল ও পারমাণবিক জ্বালানি কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে ‘অবিচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—যখন ওয়াশিংটন নিজেই রুশ জ্বালানি আমদানি করছে, তখন একই অধিকার ভারত কেন ভোগ করতে পারবে না।

দুই দিনের সফরে নয়া দিল্লিতে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পর ‘ইন্ডিয়া টুডে’–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন:

“যুক্তরাষ্ট্র নিজেই আমাদের কাছ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি কেনে। সেটাও তো জ্বালানি। যুক্তরাষ্ট্রের যদি আমাদের জ্বালানি কেনার অধিকার থাকে, তাহলে ভারতের সেই সুযোগ থাকবে না কেন? এই প্রশ্নটি গভীরভাবে বিশ্লেষণের যোগ্য। আমরা এটি নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রস্তুত—এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও।”

বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আলোচনার কেন্দ্রে

পুতিনের এ সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামরিক খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
সোভিয়েত যুগ থেকেই ভারত–রাশিয়া সম্পর্ক কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে টিকে আছে। ভারত রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা যন্ত্রাংশের ক্রেতা এবং দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম স্তম্ভ ছিল সামরিক সহযোগিতা।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর রুশ তেলের বড় ক্রেতা ভারত

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভারত দ্রুত রুশ তেলের অন্যতম বড় ক্রেতায় পরিণত হয়।
বিশেষত সমুদ্রপথে ডিসকাউন্ট মূল্যে ক্রুড অয়েল কেনায় ভারতীয় রিফাইনারিগুলো বড় সুবিধা পায়। এতে রুশ তেল রপ্তানি নতুন বাজার ধরে রাখতে সক্ষম হয় এবং ভারতও আমদানি ব্যয় কমিয়ে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও ভারতের অবস্থান

ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে নয়াদিল্লির প্রতি রুশ জ্বালানি আমদানি কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে ভারত নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছে—

  • তাদের প্রথম অগ্রাধিকার জ্বালানি নিরাপত্তা

  • বহুমুখী কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা

  • এবং সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করা

পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য তাই ভারতকে কূটনৈতিকভাবে আরও স্বস্তি দেয় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা

পুতিনের এই সফরকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্ত করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • জ্বালানি সহযোগিতা

  • প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উত্পাদন

  • বাণিজ্য সম্প্রসারণ

  • এবং পারমাণবিক খাতে সহযোগিতা

—এই চারটি ক্ষেত্রেই নতুন মোড় আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ