অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বৃহস্পতিবার অবলুপ্ত ৫ ব্যাংক সংক্রান্ত একটি ব্রিফিংয়ে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা, আমানতকারীদের ভবিষ্যৎ, অডিট কার্যক্রম এবং পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড) পুনর্গঠন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। এই প্রতিবেদনে ব্রিফিংয়ের মূল তথ্য ও সিদ্ধান্তসমূহ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো।
আমানতকারীদের মুনাফা ও অর্থ ফেরত
- লোকসানে থাকার কারণে অবলুপ্ত ৫ ব্যাংকের আমানতকারীরা ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য কোনো মুনাফা পাবেন না।
- তবে গভর্নর আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দুই বছরের মধ্যে আমানতকারীরা তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাবেন।
- এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় পুনর্গঠন ও তদারকি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
অডিট ও জবাবদিহি
- গভর্নর জানান, ৫ ব্যাংকের ক্ষেত্রে যেসব ভুয়া অডিট করা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
- ব্যাংকগুলোর ফরেনসিক অডিট সম্পন্ন করতে আরও প্রায় তিন মাস সময় প্রয়োজন হবে।
- ফরেনসিক অডিট শেষ হলে লুটপাটের পরিমাণ ও দায়ীদের বিষয় আরও পরিষ্কার হবে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড) পুনর্গঠন
- গভর্নর জানান, ব্যাংকগুলোর বোর্ডের বিষয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে।
- এ পরিবর্তনে কেউ কেউ অসন্তুষ্ট হতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
- গুণগত ও সংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
- উদ্দেশ্য হলো ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
ব্রিফিংয়ে গভর্নরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, অবলুপ্ত ৫ ব্যাংকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক একদিকে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে, অন্যদিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। ফরেনসিক অডিট ও বোর্ড পুনর্গঠনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়ানোর পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


