বিশেষ প্রতিবেদক :

রাজধনীর বিভিন্ন দপ্তরে পড়ে থাকা অচল সরকারি গাড়িগুলো এখন ভাঙারির স্তূপে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অযত্ন–অবহেলা, দায়িত্বহীনতা আর জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে গাড়িগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর। ঢাকার আগারগাঁওয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে রাখা ঢাকা মেট্রো খ–১১–৮৪০৫ নম্বরের একটি জিপ দেখলে এখন কঙ্কাল মনে হয়—লোহার গঠন ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
অপচয় রাষ্ট্রের, দায় নেই কারও
সরকারি এসব গাড়ি ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু বেশির ভাগ গাড়িরই রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, যন্ত্রাংশ পরিবর্তনে গড়িমসি এবং ব্যবহারের অনিয়মে দ্রুত অচল হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউই এই অপচয়ের দায় নিতে চান না। ফলে সরকারি সম্পদ নষ্ট হলেও কার্যত দায় নির্ধারণ বা ব্যবস্থা–কোনোটাই হচ্ছে না।
গাড়ির সংকট, তবু পড়ে আছে অচল বহর
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে পরিবহনের তীব্র সংকট রয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প শেষে যেসব গাড়ি প্রকল্পের অধীনে ব্যবহার করা হতো, সেগুলো পরিবহন পুলের অনুমতি নিয়ে নিয়মিত কাজে লাগানো হয়। কিন্তু অধিকাংশ গাড়ির বয়স এখন ২৫ থেকে ৩০ বছর। নিয়মিত মেরামত করে সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও অনেক গাড়িই আর ব্যবহারযোগ্য নয়। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের জন্যও পর্যাপ্ত গাড়ি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
মেরামত অযোগ্য গাড়ি নিলামে আটকে
অধিদপ্তর সূত্র বলছে, যেসব গাড়ি মেরামত অযোগ্য, সেগুলোর নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রস্তাব (প্রপোজাল) পাঠানো হয়েছে। তবে সরকারি নিলাম প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় মাসের পর মাস ফাইল ঘুরছে। ফলে বিক্রি বা অপসারণ করা যাচ্ছে না পুরোনো গাড়ির স্তূপগুলো। এসব অচল গাড়ি দপ্তরের কর্মপরিবেশ নষ্ট করছে, পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে জায়গা।
দায়বদ্ধতা বাড়ানোর দাবি
সরকারি সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ববোধ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, গাড়ি কেনার সময় থেকেই রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা থাকতে হয়। সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের অপচয় অনিবার্য হয়ে ওঠে।
শেষ কথা
রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগে কেনা সরকারি গাড়িগুলো বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকা শুধু সম্পদের অপচয়ই নয়, জনস্বার্থেরও ক্ষতি। পরিবহন সংকটে ভুগতে থাকা দপ্তরের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে একদিকে, অন্যদিকে ভাঙারি হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান সরকারি সম্পদ। দ্রুত নিলাম প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগই পারে এই অচলাবস্থা দূর করতে।


