সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

অপচয় রাষ্ট্রের, দায় নেই কারও, শতকোটি টাকার সরকারি গাড়ি ভাঙারির স্তূপ

পাঠক প্রিয়

বিশেষ প্রতিবেদক :

রাজধনীর বিভিন্ন দপ্তরে পড়ে থাকা অচল সরকারি গাড়িগুলো এখন ভাঙারির স্তূপে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অযত্ন–অবহেলা, দায়িত্বহীনতা আর জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে গাড়িগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর। ঢাকার আগারগাঁওয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে রাখা ঢাকা মেট্রো খ–১১–৮৪০৫ নম্বরের একটি জিপ দেখলে এখন কঙ্কাল মনে হয়—লোহার গঠন ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

অপচয় রাষ্ট্রের, দায় নেই কারও

সরকারি এসব গাড়ি ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু বেশির ভাগ গাড়িরই রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, যন্ত্রাংশ পরিবর্তনে গড়িমসি এবং ব্যবহারের অনিয়মে দ্রুত অচল হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউই এই অপচয়ের দায় নিতে চান না। ফলে সরকারি সম্পদ নষ্ট হলেও কার্যত দায় নির্ধারণ বা ব্যবস্থা–কোনোটাই হচ্ছে না।

গাড়ির সংকট, তবু পড়ে আছে অচল বহর

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে পরিবহনের তীব্র সংকট রয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প শেষে যেসব গাড়ি প্রকল্পের অধীনে ব্যবহার করা হতো, সেগুলো পরিবহন পুলের অনুমতি নিয়ে নিয়মিত কাজে লাগানো হয়। কিন্তু অধিকাংশ গাড়ির বয়স এখন ২৫ থেকে ৩০ বছর। নিয়মিত মেরামত করে সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও অনেক গাড়িই আর ব্যবহারযোগ্য নয়। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের জন্যও পর্যাপ্ত গাড়ি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

মেরামত অযোগ্য গাড়ি নিলামে আটকে

অধিদপ্তর সূত্র বলছে, যেসব গাড়ি মেরামত অযোগ্য, সেগুলোর নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রস্তাব (প্রপোজাল) পাঠানো হয়েছে। তবে সরকারি নিলাম প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় মাসের পর মাস ফাইল ঘুরছে। ফলে বিক্রি বা অপসারণ করা যাচ্ছে না পুরোনো গাড়ির স্তূপগুলো। এসব অচল গাড়ি দপ্তরের কর্মপরিবেশ নষ্ট করছে, পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে জায়গা।

দায়বদ্ধতা বাড়ানোর দাবি

সরকারি সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ববোধ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, গাড়ি কেনার সময় থেকেই রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা থাকতে হয়। সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের অপচয় অনিবার্য হয়ে ওঠে।

শেষ কথা

রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগে কেনা সরকারি গাড়িগুলো বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকা শুধু সম্পদের অপচয়ই নয়, জনস্বার্থেরও ক্ষতি। পরিবহন সংকটে ভুগতে থাকা দপ্তরের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে একদিকে, অন্যদিকে ভাঙারি হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান সরকারি সম্পদ। দ্রুত নিলাম প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগই পারে এই অচলাবস্থা দূর করতে।

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ