অনলাইন ডেস্ক

দেশের ২০ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই শৈত্যপ্রবাহ আরও অন্তত দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একই সঙ্গে নদী অববাহিকাগুলোতে ঘন কুয়াশার দাপটও থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির তথ্যমতে, আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়—৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলা আজ শৈত্যপ্রবাহের কবলে রয়েছে। এ ছাড়া নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া—এই চার জেলাতেও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের মোট জেলা সংখ্যা ১৬ হওয়ায় সব মিলিয়ে বর্তমানে দেশের ২০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে।
এর আগে গতকাল (৮ জানুয়ারি) দেশের ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। ওই দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে—৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগের দিন নওগাঁর বদলগাছীতে সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন ছিল।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থার বিষয়ে অধিদফতর জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে আগামী ১০ জানুয়ারির দিকে উত্তর শ্রীলঙ্কা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে, যা শৈত্যপ্রবাহের অন্যতম কারণ।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসের অন্তত মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এর বিস্তৃতি ও তীব্রতা সময়ভেদে কমবেশি হতে পারে।
উল্লেখ্য, কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র এবং ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।


