নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা ও প্রস্তুতি বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য একটি আদর্শ তৈরি করবে। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন যেন এমন একটি নির্বাচন হয়, যা আগামী দিনের সব নির্বাচনের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়।
বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবসহ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার, কোস্ট গার্ড ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের মূল কাজ হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা। এটি জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই বিশাল কাজটি সফলভাবে শেষ করে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দাঁড় করাতে হবে।” তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন যেন কোথাও কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশই এখন সর্বোচ্চ নির্দেশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমান্ডের মূল ভূমিকায় থাকবে। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে বডি ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা এবং কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ে কোনো ঘাটতি যেন না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। দেশি-বিদেশি বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তারা বিষয়টিকে খুব সিরিয়াসলি নিয়েছেন, আমাদেরও সুপার সিরিয়াস থাকতে হবে।”
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের ইতিবাচক মনোভাবের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সবাই সৌহার্দ্য বজায় রেখে চলছেন—এটাই একটি সুন্দর নির্বাচনের বড় শক্তি।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানান, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ২৬টি দেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ৩০০ জনের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের ৫৬ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।
তিনি বলেন, আজ মধ্যরাত থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন। সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে তার মন্ত্রণালয় কাজ করছে। টেলিযোগাযোগ বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, সব ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করতে পারবেন। স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি জানান, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে মাঠপর্যায়ে বডি ক্যামেরা পৌঁছে যাবে এবং ড্রোন ব্যবহারের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের ওপর একটি ভিডিওচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
বৈঠকের শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে এবং প্রয়োজনে আরও ঘন ঘন এ ধরনের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।


